আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুক্রবার প্রথমবারের জন্য মুর্শিদাবাদ জেলায় আছেন শুভেন্দু অধিকারী। হেলিকপ্টারে কলকাতা থেকে বহরমপুরে এসে তিনটে কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও খারাপ আবহাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী সড়কপথে মুর্শিদাবাদের আসছেন। 

মুর্শিদাবাদে এসেই মুখ্যমন্ত্রী প্রথমেই বহরমপুরের একটি বেসরকারি হোটেলে বিজেপির বহরমপুর সংগঠনিক জেলার কোর কমিটির সদস্যদের সঙ্গে একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন। সেই বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী সোজা পৌঁছে যাবেন বহরমপুর রবীন্দ্র সদনে। সেখানে তাঁর প্রশাসনিক বৈঠক রয়েছে। প্রশাসনিক বৈঠক শেষে শুভেন্দু রেজিনগরের তোকিপুরে যাবেন বিজেপির কার্যকর্তা সম্মেলনে বক্তব্য রাখার জন্য। 

মুখ্যমন্ত্রীর প্রথম মুর্শিদাবাদ সফর শুরু হওয়ার আগেই এবার বিতর্ক দেখা দিল তাঁর প্রশাসনিক সভায় বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনও  বিধায়কদেরকে না ডাকাকে কেন্দ্র করে। ২২ আসন বিশিষ্ট মুর্শিদাবাদ জেলায় এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি ৮টি আসনে, হুমায়ুন কবীর ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’র প্রতীকে দু’টি আসনে, কংগ্রেস প্রার্থীরা দু'টি আসনে, তৃণমূল কংগ্রেস ন’টি আসনে এবং বাম প্রার্থী একটি আসনে জয়ী হয়েছেন। 

সূত্রের খবর, শুক্রবারের মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে কেবলমাত্র বিজেপি বিধায়করা ডাক পেয়েছেন। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কোনও বিধায়ককে মুখ্যমন্ত্রী প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকা হয়নি। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহরমপুরের প্রাক্তন কংগ্রেস সংসদ অধীর চৌধুরী। বৈঠকে ডাক না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ নওদার বিধায়ক হুমায়ুনও। 

হুমায়ুন বলেন, “সম্প্রতি মালদা জেলায়, মুর্শিদাবাদ এবং মালদার প্রশাসনিক কর্তাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়েছিল। সেই বৈঠকে আমি ডাক পেয়েছিলাম এবং উপস্থিত ছিলাম। আজকের বৈঠকে আমাকে ডাকা হয়নি। এর কারণ কী আমি জানি না।”

শুক্রবার বহরমপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর বলেন, “মুর্শিদাবাদে আমাদের দু’জন বিধায়ক রয়েছেন। আমি শুনেছি তাঁদেরকে প্রশাসনিক ডাকা হয়নি। তবে এটা ঠিক নয়, বঞ্চনা এবং পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে। তৃণমূলের জামানায় আমি সাংসদ থাকাকালীন কোনওদিন এই ধরনের বৈঠকে ডাক পাইনি। সাংসদ হিসেবে ‘দিশা’ কমিটির বৈঠকেও ডাক পাইনি। তবে আমি শুনেছি মুখ্যমন্ত্রী অন্য জেলায় যখন প্রশাসনিক বৈঠক করেছেন তখন বিরোধী রাজনৈতিক দলের বিধায়কদেরকে সেখানে ডাকা হয়েছে। এখানে কেন ব্যতিক্রম হল সেই প্রশ্ন কিন্তু থাকবে।” 

মুখ্যমন্ত্রীর মুর্শিদাবাদ জেলায় আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে ‘ঋতব্রত-পন্থী’ তৃণমূল এবং ‘মমতা-পন্থী’ তৃণমূল কোনও ‘ব্লক’কেই ডাকা হয়নি। বর্তমানে মুর্শিদাবাদে ‘মমতা-পন্থী’ তৃণমূল একজন বিধায়ক রয়েছেন এবং ‘ঋতব্রত-পন্থী’ তৃণমূলের ৮ জন বিধায়ক রয়েছে। ‘ঋতব্রত-পন্থী’ তৃণমূল ব্লকের সদস্য তথা ভগবানগোলার বিধায়ক রিয়াত হোসেন সরকার বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর আজকের প্রশাসনিক বৈঠকে আগে মালদায় যে প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে সেখানে আমরা সকলেই ডাক পেয়েছিলাম এবং উপস্থিত ছিলাম। এর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মুর্শিদাবাদ জেলার সমস্ত বিধায়কদেরকে বিধানসভায় আলাদা করে ডেকে প্রায় দু’ঘন্টার বেশি সময় ধরে কথা বলেছেন। সুতরাং আজকের বৈঠকে আলাদা করে আমাদের কিছু বলার ছিল না। ডাক পাওয়া না নিয়ে আমাদের কোনও ক্ষোভ বা অভিমান নেই।”

তবে ‘মমতা-পন্থী’ তৃণমূলের সদস্য তথা জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি বলেন, “আমাকে আজকের বৈঠকে যাওয়ার জন্য কেউ চিঠিও দেয়নি বা আমন্ত্রণ জানায়নি। তাই সেখানে আমি যাচ্ছি না।”

একই কথা জানিয়েছেন ডোমকল থেকে নির্বাচিত বাম বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, “সম্প্রতি মালদা জেলায় মুর্শিদাবাদ এবং মালদার প্রশাসনিক আধিকারিকদেরকে নিয়ে যে প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছিল সেখানে আমি ডাক পেয়েছিলাম এবং উপস্থিত ছিলাম। তবে মুর্শিদাবাদে প্রশাসনিক বৈঠক হচ্ছে অথচ মুর্শিদাবাদের একটি বিধানসভার বিধায়ক হিসেবে কেন ডাক পেলাম না তা আমার জানা নেই।”