আজকাল ওয়েবডেস্কঃ রথযাত্রা উৎসবকে সামনে রেখে পর্যটকদের নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার নিশ্চিত করতে নিউ দিঘায় বিশেষ অভিযান চালাল পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার খাদ্য সুরক্ষা দপ্তর।বৃহস্পতিবার নিউ দিঘার একাধিক ছোট-বড় হোটেল, রেস্তোরাঁ ও খাবারের দোকানে আচমকা পরিদর্শনে যান খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা।

অভিযান চলাকালীন হোটেলগুলির রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা, ব্যবহৃত তেলের মান, খাদ্য সংরক্ষণের পদ্ধতি, পানীয় জলের ব্যবস্থা, কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করা এবং রান্নাঘরের সামগ্রিক পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়। পরিদর্শনের সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিকাঠামোগত কিছু ত্রুটি ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সেই ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতে নিয়ম না মানলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা জানান, উৎসবের মরশুমে দিঘায় পর্যটকের সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। সেই সময় খাবারের মান বজায় রাখা এবং খাদ্যবাহিত রোগের ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত নজরদারি ও আকস্মিক অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও মানসম্মত খাবার পরিবেশন নিশ্চিত করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

প্রশাসনের আশা, এই ধরনের নজরদারি ও সচেতনতামূলক পদক্ষেপের ফলে পর্যটকরা আরও নিরাপদ পরিবেশে খাবার গ্রহণ করতে পারবেন এবং দিঘার পর্যটন ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা আরও বৃদ্ধি পাবে।

উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন পর্যটন শহর দিঘার জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তি, আচার ও ঐতিহ্যের আবহে পালিত হয় ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও দেবী সুভদ্রার পবিত্র স্নানযাত্রা উৎসব। তিথি ও প্রাচীন প্রথা মেনে আয়োজিত এই উৎসবকে ঘিরে মন্দির চত্বরে ভিড় করেন অসংখ্য ভক্ত ও দর্শনার্থী।

মন্দিরের সামনে বাঁদিকে বিশেষভাবে নির্মিত স্নানবেদীতে মহাপ্রভুর মহাস্নানের আয়োজন করা হয়। মোট ১০৮টি কলসে ডাবের জল, দুধ, সমুদ্রের জল, ঘৃত, মধু, চন্দন, তুলসী পাতা-সহ নানা পবিত্র উপকরণ দিয়ে শাস্ত্রবিধি অনুযায়ী স্নান সম্পন্ন হয়। 
               
সকাল ৯টায় পাহাণ্ডি বিজয় (পাহাণ্ডি উৎসব)-এর মাধ্যমে গর্ভগৃহ থেকে শ্রীবিগ্রহকে স্নানবেদীতে নিয়ে আসা হয়েছিল। এরপর বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ ও পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মহাস্নানের আয়োজন করা হয়। দুপুর ১টায় গজবেশ (হাতি বেশ) দর্শনের আয়োজন করা হয়েছিল, যা স্নানযাত্রার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।

 দিঘার জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, ২৯ জুন সন্ধ্যা থেকে ভগবান জগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার সরাসরি দর্শন বন্ধ থাকবে। স্নানযাত্রার পর প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী ভগবান অসুস্থ হয়ে 'অনসর' কক্ষে বিশ্রামে নেবেন। ওই সময় মন্দির খোলা থাকলেও ভক্তরা মূল বিগ্রহের দর্শন পাবেন না। তবে মন্দিরে প্রবেশ করে রাধা-মদনমোহন দর্শন করতে ও পুজো দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।