আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে ভোটে জিতেই আরজি কর কান্ড নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ অভয়ার মা। ওই কাণ্ডে একাধিক অভিযুক্তের গ্রেপ্তারির আবেদন করেছেন পানিহাটির বিজয়ী বিধায়ক। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ-সহ মোট তিন জনের গ্রেপ্তারির আবেদন জানিয়েছেন অভয়ার মা। মঙ্গলবার শিয়ালদহ আদালতে এই মামলার শুনানি হবে।
সূত্রের খবর, ২০২৪-এর আর জি করের এই নৃশংস ঘটনার নির্মল ছাড়াও আর দু'জনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। তাঁর অভিযোগ, ৯ অগস্ট তাঁর মেয়ের মৃতদেহ সৎকারের সময়ে শ্মশানে ‘অতি সক্রিয়তা' দেখিয়েছিলেন নির্মল। ঘটনাচক্রে নির্মল পানিহাটিরই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁকে ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে থাকার অভিযোগে এর আগেও সিবিআই তলব করে। সিজিও কমপ্লেক্সে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। অন্যদিকে, আরও একজন অভিযুক্ত সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ও নির্যাতিতের প্রতিবেশী। পাড়ায় পরিচিত 'কাকু' নামে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, শ্মশানে নির্যাতিতার দেহ সৎকারের নথিতে সঞ্জীব মুখোপাধ্যায়ের স্বাক্ষর ছিল। স্থানীয়দের দাবি, একদা সিপিএম-এর বিধায়ক ছিলেন সঞ্জীব। তারপর ভোটে হেরে সিপিএম থেকে পদত্যাগ করেন। ২০১৯ সালের পর যোগ দেন তৃণমূলে।
উল্লেখ্য, এ বার ভোটের প্রচারে পানিহাটিতে এসেও প্রধানমন্ত্রী মোদি হুঁশিয়ারি দেন ক্ষমতায় এলেই আরজি করের ঘটনা সংক্রান্ত ফাইল খোলা হবে। ভোটে জিতেই আরজি করে ধর্ষণ-খুনের মামলা নিয়ে আবার সক্রিয় নির্যাতিতার মা। বিধানসভা ভোটে পানিহাটি থেকেই এ বার তিনি প্রায় ২৯ হাজার ভোটে জয়লাভ করেছেন রত্না। হারিয়েছেন নির্মল ঘোষেরই পুত্র তৃণমূলের প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ।
প্রসঙ্গত, আরজিকর মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী এবার মামলা চলে গেল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হাতে।
রাজ্যে সরকারের পালাবদল হতেই অভয় কাণ্ডে নয়া মোড় দেখা গেল। তাঁর ডিভিশন বেঞ্চ থেকে এই মামলা সরে যাওয়ার পর বিচারপতি মান্থা জানিয়েছেন, আরজিকর মামলার জন্য রাজ্য সরকার সম্ভবত একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করেছে। সে কারণে আপাতত এই মামলা শোনার কোনও প্রয়োজন নেই।
বিচারপতি মান্থার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের তরফে জুডিশিয়াল কমিশন তৈরি হতে পারে। যে ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে সেখানেই শুনানি হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার এই মামলায় সিবিআই স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে আদালতে। এই মামলায় এর আগের শুনানিতে বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, সিবিআই চাইলে নতুন এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতে পারবে। সেটা সন্দেহভাজন এবং সাজাপ্রাপ্তদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।
এই শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আদালতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই আদালতের পর্যবেক্ষণ রাজ্য যখন জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করছে, তখন যে ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির পূর্ণাঙ্গ বিচারের শুনানির জন্য সময় দিতে পারবে তাদেরই গ্রহণ করা উচিত।
















