আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'মৎস্য মারিব, খাইব সুখে।' মাছ বিমুখ নয় বিজেপি, বরং আনন্দে সঙ্গী মাছ-ভাত। নির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের পর বিধানসভায় মাছে ভাতে মধ্যাহ্নভোজে সারলেন গেরুয়া শিবিরের বিধায়করা। আর সেই ছবি ধরা পড়ল সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরায়। ভোটের আগে এই নিয়ে কম আলোচনা হয়নি। ভোটের প্রচারে মাছ নিয়ে ঘুরেছেন বিজেপির প্রার্থীরা। তৃণমূলের 'বাঙালি অস্মিতা'-এর অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের বাঙালি প্রমাণ করেছেন তাঁরা, ভোটের ফলে সে কথা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। মঙ্গলবার বিধানসভায় জমিয়ে মাছ-ভাত খেলেন বিজেপি বিধায়করা। ছবিতে দেখা গেল কৌস্তভ বাগচিদের কবজি ডুবিয়ে মাছ খেতে। 

বাঙালি মানেই মাছ-ভাত। বাংলার মসনদে বসার পরই নানা জায়গায় মাছ-ভাতের আসর বসেছে। আয়োজনে বিজেপি। শপথ গ্রহণের পরদিনই কলকাতা-সহ জেলায় জেলায় চলে এলাহি ‘ফিশ ফেস্টিভ্যাল’। রাজনৈতিক মহলের মতে, বিজেপিকে ‘নিরামিষাশী’ বা ‘বহিরাগত’ তকমা দিয়ে তৃণমূল যে প্রচার চালিয়েছিল, এই পাত পেড়ে মাছ-ভাত খেয়েই তার পাল্টা জবাব দিল গেরুয়া শিবির।

কোথাও মেনুতে ভেটকির ঝোল, তো কোথাও মাছের মাথা দিয়ে মুগ ডাল। জোড়াসাঁকোর বিধায়ক বিজয় ওঝার আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবজি ডুবিয়ে খেতে দেখা গিয়েছে মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল ও প্রোটেম স্পিকার তাপস রায়কে। স্রেফ শহর নয়, জলপাইগুড়ি থেকে আলিপুরদুয়ার- উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতেও চলে মাছ-ভাতের উৎসব।

মাছ-ভাত খেতে খেতে বিরোধী পক্ষকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। দিলীপ ঘোষের সাফ কথা, “তৃণমূল গত ১৫ বছরে বাংলাকে মাছ উৎপাদনে স্বনির্ভর করতে পারেনি। আমরা অন্ধ্রের চালানি মাছ নয়, বাংলার মানুষকে বাংলার মাছ খাওয়াব।” অন্যদিকে, তাপস রায়ের কটাক্ষ, “এতদিন মাছ তো খেত তৃণমূলের তোলাবাজরা! এবার বাংলার প্রতিটি মানুষের থালায় মাছ পৌঁছবে। বাঙালি মাছ খাবে, ডিম খাবে যা খুশি খাবে।” অগ্নিমিত্রা পালের গলায় ফুটে উঠেছে বাঙালিয়ানা। তিনি বলেন, “মাছ ছাড়া বাঙালি বাঁচতে পারে না। যতই চিকেন-মটন থাকুক, মাছের ঝোল-ভাতই আমাদের শেষ কথা।”