আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে যখন বাংলার প্রথম বিজেপি সরকার শপথ নিচ্ছে। তখনই এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্ট করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। ওই পোস্টে তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, ‘‌বাংলা ও দিল্লি দু’‌জায়গাতেই বিরোধী ভূমিকা পালন করবে তৃণমূল।’‌ 


তিনি এক্স হ্যান্ডলে দীর্ঘ পোস্টে লিখেছেন, ‘‌অন্তত ৩০ লক্ষ প্রকৃত ভোটারকে ভোটদান থেকে বঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এই গোটা প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সংস্থা ও নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতমূলক আচরণ আমাদের নজরে এসেছে।’‌ তিনি আরও লিখেছেন, ‘‌যেসব গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিরপেক্ষভাবে কাজ করার জন্য গঠিত, সেই সমস্ত সংস্থা নিরপেক্ষভাবে কাজ না করার অভিযোগ উঠছে। ফলে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।’‌ 


অভিষেক আরও লিখেছেন, ‘‌গণনার দিন ইভিএম নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্ন রয়েছে জনগণের প্রকৃত রায়কে আদৌ সম্মান জানানো হয়েছে কি না। ইতিমধ্যেই গণনা কেন্দ্রগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং ভিভিপ্যাট স্লিপের স্বচ্ছ গণনার দাবি জানিয়েছি আমরা। সত্য যাতে জনগণের সামনে আসে সেটাই চাই।’‌ তিনি এরপর লিখেছেন, ‘‌গণতন্ত্র তখনই টিকে থাকতে পারে, যখন নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের মধ্যে আস্থা ও বিশ্বাস জাগিয়ে তোলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা তা দেখতে পাইনি।’‌

 


ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিষেক। লিখেছেন, ‘‌নির্বাচন পরবর্তী হিংসা, দলীয় কার্যালয়ে হামলা, তৃণমূল কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং সমর্থকদের বিরুদ্ধে হুমকির খবরগুলো একটি গণতান্ত্রিক সমাজে অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তৃণমূল কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠছে। অনেকেই ঘরছাড়া।’‌


অভিষেক আরও লিখেছেন, ‘কর্মীদের পাশে তৃণমূল কংগ্রেস সবসময় থাকবে। ‌দিল্লি ও বাংলায় একটি শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করাই হবে আমাদের লক্ষ্য। মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে জনগণের অধিকার ও মর্যাদার জন্য আমাদের লড়াই চলবে।’‌ 


শেষমেশ অভিষেক লিখেছেন, ‘‌এই কঠিন সময়ে প্রত্যেক তৃণমূল সমর্থক ও কর্মীকে দৃঢ় ও ঐক্যবদ্ধ থাকার অনুরোধ করছি। কেউ যদি নির্বাচন পরবর্তী হিংসার শিকার হয়ে থাকেন, তবে আমাকে জানান। আমি তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করব। সত্যের জয় ও জনগণের স্বার্থে প্রত্যেক তৃণমূল কর্মী ও সমর্থকের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ব।’‌