আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায় এই প্রথম বিজেপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসার জন্য রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা জানাতে গিয়ে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শনিবার শপথগ্রহণের মঞ্চ থেকেই জনতার উদ্দেশ্যে নত হলেন। প্রণাম করলেন সাষ্টাঙ্গে।

লাল গালিচায় মোড়া শপথ মঞ্চ থেকে উল্লাসিত জনসমুদ্রের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের সূচনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর ডানপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন বেশ কয়েকজন নেতা, যাদের মধ্যে ছিলেন শুভেন্দু অধিকারী (যিনি বিজেপির হয়ে বাংলার প্রথম মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন) এবং আরও পাঁচজন, যারা রাজ্যের প্রাথমিক মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নেন।

এরপর, কয়েক মুহূর্ত পরেই, প্রধানমন্ত্রী মোদি ধীরে ধীরে হাঁটু গেড়ে বসে জনতার উদ্দেশ্যে নত হন। এ সময় তাঁর দুই হাত সামনের দিকে প্রসারিত হয়ে দৃঢ়ভাবে মাটিতে ঠেকে ছিল।

নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বাংলায় প্রচারে বেশ অনেকটা সময় ব্যয় করেছিলেন। একইভাবে, বিজেপির জয় নিশ্চিত করতে অমিত শাহও অসংখ্য রোড-শো ও জনসভার মাধ্যমে দীর্ঘ ও কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন।

আজকের দিনটি কেবল কাঁথির মেজ ছেলে শুভেন্দু অধিকারীর একার দিন নয়। এই দিনটি বিজেপির কাছে কেবল একটি 'স্বপ্নপূরণের দিন' হিসেবেও সীমাবদ্ধ নয়। নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিই বলে দেয় যে- মতাদর্শ, জয়ী বা পরাজিত পক্ষ নির্বিশেষে - বাংলার রাজনীতির এই মোড়টি কতটা তাৎপর্যপূর্ণ।

রাজ্যের ২৯৪ অসনবিশিষ্ট বিধানসভায় বিজেপি পেয়েছে ২০৭টি। তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনকালের অবসান ঘটানোর কয়েক দিন পরেই রাজ্যপাল আরএন রবি (একজন প্রাক্তন ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো আধিকারিক, যার বিদ্রোহ দমনে রয়েছে বিশাল অভিজ্ঞতা) কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারীকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথবাক্য পাঠ করান।  

শুভেন্দু অধিকারীর নতুন মন্ত্রিসভার প্রাথমিক দলে বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে বিজেপি যে কঠোর পরিশ্রম করেছে, তা স্পষ্ট। দিলীপ ঘোষ 'অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী' বা ওবিসি সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত, অগ্নিমিত্রা পাল কায়স্থ, অশোক কীর্তনীয়া মতুয়া, ক্ষুদিরাম টুডু আদিবাসী সম্প্রদায়ের এবং নিশীথ প্রামাণিক রাজবংশী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি।

ব্যক্তিগতভাবে, এই পাঁচজন নেতা বেশ কিছুদিন ধরেই বাংলার বিজেপি রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিয়ে আসছিলেন। দলের সামগ্রিক শক্তি বৃদ্ধি এবং শেষ মুহূর্তের যে জোরালো প্রয়াস দলটিকে ক্ষমতায় নিয়ে এসেছে, তাতে তাঁদের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।