আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোশ্যাল মিডিয়া শরগরম ২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে। ক্ষোভ, নিন্দার ঝড় রাজ্যের শাসক দলে। মহিলাদের প্রতি কুরুচিকর, নিম্নমানের মন্তব্য বরদাস্ত নয়, স্পষ্ট বার্তা শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের।
?s=48
২৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিও। বুধবার তা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। রাজ্যের শাসক দলের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেল থেকেও শেয়ার করা হয়েছে ওই ভিডিও। যদিও তার সত্যতা যাচাই করেনি আজকাল ডট ইন। তবে ওই ভিডিওতে এক ব্যক্তির কিছু কথা শোনা গিয়েছে। তাতে ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া যুবকদের, তাঁদের স্ত্রীদের উদ্দেশে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করে বলেছেন, 'বড়ভাই হিসেবে সাবধান করলাম...'।
অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ফেসবুক পেজে ওই ভিডিও শেয়ার করে লেখা হয়েছে, 'নন্দীগ্রামের বিজেপি নেতা প্রলয় পালের দাবি, যে সকল মহিলার স্বামী অন্য রাজ্যে কাজ করেন, সেই মহিলাদের সতীত্ব প্রমাণ করার জন্য গাইনোকোলজিক্যাল টেস্ট অর্থাৎ স্ত্রীরোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা করাতে হবে। আসলে বিজেপির ভারতে, যে সকল মহিলা 'উন্নয়নের পাঁচালি' পাঠে অংশ নেন বা দিঘার জগন্নাথ ধামে যান, তাঁদের সন্দেহের চোখে দেখা হয়। কারণ, বিজেপির দুনিয়ায় একজন মহিলার চরিত্র সর্বদা প্রশ্নের মুখে থাকে এবং তাঁর শরীর সর্বদা পরীক্ষা, বিচার এবং প্রকাশ্যে অপমানের জন্য উন্মুক্ত!
বিজেপি আসলে চায়, মহিলারা তাঁদের সতীত্ব প্রমাণ করতে "অগ্নিপরীক্ষা" দিক। এটা বিজেপির নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে বয়ে চলা নারীবিদ্বেষী, পুরুষতান্ত্রিক, অতি-রক্ষণশীল এবং নারী-বিরোধী মানসিকতাকে নগ্ন করে দেয়। একদিকে, 'বেটি বাঁচাও, নারী সুরক্ষা'র কথা বলে, আর পরক্ষণেই মহিলাদের সেই পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নামিয়ে আনে, যেখানে নারী শরীরকে সর্বদা পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিচারের টেবিলে রাখা যায়!
?s=48
বাংলা এই মধ্যযুগীয় বর্বরতাকে ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করছে। আমাদের মা-বোনেরা কারও সম্পত্তি নন, যে তাঁদের জনসমক্ষে সতীত্বের পরীক্ষা দিতে হবে। মহিলারা আমাদের রাজ্যের মেরুদণ্ড এবং ২০২৬-এ বাংলার মহিলারাই বিজেপির পতনের কারণ হবেন। যে মহিলাদের সম্ভ্রম কেড়ে পদদলিত করতে চাইছে বিজেপি, তারাই উৎখাত করবে এদের।'
?s=48
তৃণমূলের অরূপ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, প্রলয় পাল, শুভেন্ধু ঘনিষ্ঠ, নন্দীগ্রাম ২ ব্লকের বাসিন্দা। এই ঘটোনার রেশ টেনে বিজেপিকে একহাত নিয়ে অরূপ বলেন, ' ওরা যেসব রাজ্যে ক্ষমতায় আছে, সেখানে মহিলাদের সাথে কেমন আচরণ করা হয় তা আমরা সবাই দেখেছি। বারাণসীতে হোলি উৎসবের সময় মহিলাদের সাথে যা হয়েছে তা সবার জানা। এমনকি এই রাজ্যেই বিজেপির পার্টি অফিসের ভেতরে বিজেপিরই এক কর্মীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে খোদ বিজেপি নেতার বিরুদ্ধে। হাথরাস, উন্নাও থেকে মণিপুর- মানুষ এখন বলতে শুরু করেছে "বেটি বাঁচাও, তবে বিজেপি থেকে"। বিজেপির উপস্থিতিতে মহিলারা মোটেও নিরাপদ নন।'
শুভেন্দু অধিকারী, অমিত শাহের সঙ্গে ওই ব্যক্তির ছবি শেয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সেসব শেয়ার করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন শশী পাঁজা, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদারেরাও।
