মনিরুল হক: স্নেহে অন্ধ মমতা? তৃণমূল কংগ্রেসের ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু দিনে দিনে কালীঘাট থেকে সরে যাচ্ছিল ক্যামাক স্ট্রিটে? দলের ভাঙনের মাঝে, বহু নেতাই এই প্রশ্ন তুলে দিয়েছেন বারবার। এবার উত্তরবঙ্গের, একসময়ের মমতা ঘনিষ্ঠ নেতার মুখেও একই কথা। অভিষেক, আইপ্যাক সবকিছু নিয়েই ক্ষুব্ধ রবীন্দ্রনাথ।
প্রায় ২২ বছর তৃণমূলের জেলা সভাপতি ছিলেন রবীন্দ্রনাথ। মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভায় উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্বও সামলেছেন। সেই অভিজ্ঞতার জায়গা থেকেই তিনি দাবি করে বলেন, বর্তমান সংগঠনে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা আগের মতো নেই। তাঁর প্রশ্ন, 'মমতা ব্যানার্জির হাতে সত্যিই কি এখন ক্ষমতা আছে? ক্ষমতা কুক্ষিগত হয়ে গিয়েছে। অনেক অযোগ্য ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ফলে দিদি চাইলেও অনেক কিছু করতে পারেননি।'
অভিষেক ব্যানার্জিকে নিয়েও সরাসরি সমালোচনা করেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর বক্তব্য, অভিষেকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এখনও সীমিত। তিনি দাবি করেন, অভিষেককে সক্রিয় রাজনৈতিক নেতৃত্ব থেকে সরিয়ে রাখা হলে দলের বহু পুরনো নেতা আবার মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বেই ফিরতে পারেন। রবীন্দ্রনাথ বলেন, 'অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি। আমার বিশ্বাস, অভিষেককে রাজনৈতিক অঙ্গণ থেকে সরিয়ে দিলে অনেকেই আবার দিদির কাছে ফিরে যাবেন।'
দলের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য আইপ্যাকের ভূমিকাকেও দায়ী করেছেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, দলের সাংগঠনিক বাস্তবতা না বুঝেই নানা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার খেসারত দিতে হয়েছে তৃণমূলকে। সেই কারণেই সাধারণ কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তবে এত সমালোচনার পরেও মমতা ব্যানার্জির প্রতি নিজের শ্রদ্ধা অটুট রয়েছে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ। তাঁর কথায়, "মমতা ব্যানার্জিকে আমি শ্রদ্ধা করি, ভবিষ্যতেও করব। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে আমার কোনও অভিযোগ নেই।'
শিবির বদলের কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, 'ঋতব্রত তৃণমূল নয়, তৃণমূল একটাই। যেখানে দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনপ্রতিনিধি ও নেতারা রয়েছেন, সেখানেই থাকা উচিত। উত্তরবঙ্গের অধিকাংশ বিধায়ক ও নেতারা এক জায়গায় একত্রিত হয়েছেন। কর্মীদের পাশে থাকার জন্যই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'
রবীন্দ্রনাথের অভিযোগ, যাঁদের হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের অনেকেই দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে এখন সংগঠন থেকে দূরে সরে গিয়েছেন। অথচ সেই পরিস্থিতিতে সাধারণ কর্মীরাই সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছেন। তাঁদের পাশে দাঁড়াতেই নিজের এই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বলে দাবি তাঁর।















