আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের মুখে নৃশংসভাবে খুন তৃণমূল নেতা। মাত্র দু'দিন আগেই তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই তৃণমূল নেতার মর্মান্তিক পরিণতি। নির্বাচনের প্রায় এক মাস আগেই ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল উত্তর ২৪ পরগনায়।
জানা গেছে, হাড়োয়ার ঝুজুরগাছা এলাকায় ওই তৃণমূল নেতাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। মৃতের নাম নাম মসিউর কাজি(৩৮)। দেগঙ্গার চাঁপাতলা গ্রাম পঞ্চায়েতের গাংনীয়াতে বাড়ি তাঁর। তিনি তৃণমূলের বুথ সভাপতি ছিলেন। পরিবারের তরফ জানানো হয়েছে, বুধবার রাত ন'টার সময় তাঁকে কেউ ফোন করে ডাকেন।
সেই ফোন পাওয়ার পর তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। কিন্তু রাত পেরিয়ে গেলেও সকালে বাড়ি ফেরেননি। শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। অবশেষে শংকরপুর পঞ্চায়েতের ঝুজুরগাছা এলাকা থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের লোকজন দেহ সনাক্ত করেন। তাঁদের দাবি, চক্রান্ত করে ডেকে খুন করা হয়েছে মসিউরকে। ভোটের মুখে তৃণমূল নেতার দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
গত বছরের শেষেও আরেক তৃণমূল নেতা নির্মমভাবে খুন হয়েছিলেন। বর্ষবরণের রাতে চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে উত্তর দিনাজপুরের রাজনীতি। পিকনিকের মাঝেই উত্তর দিনাজপুর তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা যুব সহ-সভাপতি নব্যেন্দু ঘোষকে নৃশংসভাবে খুন করার অভিযোগ ওঠে। বুধবার গভীর রাতে রায়গঞ্জের মিলনপাড়া মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার নেপথ্যে রাজনৈতিক বিবাদ নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
বছর ৩৭-এর নব্যেন্দু ঘোষ সম্প্রতি উত্তর দিনাজপুর জেলা তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সহ-সভাপতি পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। তিনি রায়গঞ্জ কলেজের ছাত্র সংসদের ছাত্র পরিষদের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গিয়েছিল। তিনি এক সন্তানের বাবা। কয়েকদিন আগেই মোহনবাটি বাজার সংলগ্ন এলাকায় একটি মিষ্টির দোকান খুলেছিলেন নব্যেন্দু।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বর্ষবরণের রাতে তাঁর দোকানের ঠিক উল্টো দিকে একটি পিকনিক চলছিল। সেই পিকনিকে উপস্থিত ছিলেন নব্যেন্দু ঘোষও। অভিযোগ, রাতের দিকে আচমকা বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাইকে চড়ে ঘটনাস্থলে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই চ্যালাকাঠ দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁকে। পাশাপাশি ছুরি দিয়ে এলোপাথাড়ি আঘাত করা হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর জখম অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন নব্যেন্দু।
ঘটনার পর দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে রায়গঞ্জ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কে বা কারা তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। আশ্চর্যজনকভাবে তাঁর কোনও সঙ্গীরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিবারের সদস্যদের খবর দেন।
রায়গঞ্জের পুলিশ সুপার সানাওয়ানে কুলদীপ সুরেশ জানান, 'মোহনবাটি এলাকার পিকনিকের স্থান এবং দোকানের পিছনের অংশ ঘিরে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।' অন্যদিকে জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল বলেন, 'খুনের ঘটনায় জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছি।'
এই ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক শত্রুতা, ব্যবসায়িক টানাপোড়েন নাকি ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা—কোন কারণে এই খুন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সব দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।
