আজকাল ওয়েবডেস্ক: শোচনীয় হার, সঙ্গে দলের বেশ কয়েকজন নেতাও বেসুরো। দলীয় কর্মীদের মনোবল তলানীতে। দুর্বলতা মেরামতির চেষ্টায় স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো। এর মধ্যেই রাজ্যে ভোট পরবর্তী হিংসা নিয়ে সরব প্রাক্তন শাসক দল। তোপ দাগছে বিজেপির বিরুদ্ধে। আসরে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তৃণমূল স্তর থেকে দলকে একজোট হওয়ার ডাক দিলেন অভিষেক ব্যানার্জি।

কী বলেছেন অভিষেক? 
তৃণমূলের 'সেকেন্ড-ইন-কমান্ড'-এর দাবি ভোট পরবর্তী হিংসায় এখনও রাজ্য়ব্যাপী তৃণমূলের ১০ জন কর্মীর প্রাণ গিয়েছে। ভিডিও বার্তায় সেই পরিসংখ্যান তুলে ধরে অভিষেক ব্য়ানার্জি বলেন, "যারা কাপুরুষের মতো হামলা চালায় তারা আসলে আপনাদের শক্তির মোকাবেলা করতে ভয় পায়। কারণ, বিজেপি জানে যে তারা লুটপাট চালিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এটা বিজেপির চারিত্রিক দুর্বলতার প্রকাশ।"

প্রাণ হারানো দলীয় কর্মীদের স্বপ্ন সফল করাই যে তৃণমূল নেতৃত্বের লক্ষ্য বলে দাবি করেন অভিষেক। বলেন, "এই যে ১০ জন প্রাণ হারালেন। তাঁদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। তাঁদের আত্মত্যাগ আমাদের পিছু হঠার কারণ হতে পারে না। বরং তাঁদের দেকা স্বপ্নগুলি পূরণ করাই হবে আমাদের আগামী দিনের লক্ষ্য ও আগামীর শপথ।"

তৃণমূলের জন্মের ইতিহাস, সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম পর্বের লড়াইয়ের কথাও এদিনের ভিডিও বার্তায় মনে করিয়ে দিয়েছেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তখনকার তৃণমূল কর্মীদের হার না মানা মনোবাবও তুলে ধরেন তিনি। বর্তমান পরিস্থিতিকে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের কাছে অগ্নিপরীক্ষা বলে দাবি করেছেন অভিষেক ব্যানার্জি। বলেছেন, "তৃণমূলের সর্বস্তরের সংগঠন, কর্মীদের এই অগ্নিপরীক্ষার মধ্যে দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।"

বিধানসভা নির্বাচনে ধরাশায়ী তৃণমূল। মমতা ব্য়ানার্জি যদিও এই হারকে 'কারচুপি' বলে সরব। সেই রাস্তায় হেঁটে অভিষেকও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন। ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে তৃণমূলের তরফে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, "ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে যারা জোর জবরদস্তি ক্ষমতায় এসেছেন, তারা বেশিদিন থাকবেন না। মানুষের উপর ভরসা রাখার জন্য তৃণমূল কর্মীদের আহ্বান জানাচ্ছি। সত্য একদিন প্রকাশিত হবেই। কেন্দ্র থেকে বিজেপি ক্ষমতা হারালেই বাংলায় ওরা হারবে।"

ফের কর্মীদের রাজনীতির ময়দানে নামার, পার্টি অফিস পুনরুদ্ধার করার নির্দেশ দিয়েছেন অভিষেক ব্যানার্জি। 

এদিকে এদিনই ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে তৃণমূল। তৃণমূলনেত্রী মমতা ব্যানার্জি স্বয়ং ওই মামলার আইনজীবী। হাইকোর্টে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানান, ভোট-পরবর্তী হিংসায় তাঁর দলের প্রচুর কর্মী আক্রান্ত হচ্ছেন। তৃণমূলের প্রায় ১৬০টি দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। রাজ্যে প্রায় দু'হাজার ঘটনা ঘটে গিয়েছে। প্রাক্তন পুলিশমন্ত্রী আইনজীবীর বেশে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। নিজের এলাকার উদাহরণ টেনে মমতার দাবি, পুলিশের কাছে গিয়ে অভিযোগ করতে পারছেন না। অনলাইনে অভিযোগ করতে হচ্ছে তাঁকে। রাজ্যের মানুষকে বুলডোজারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কোর্টকে আবেদন করেন তিনি। 

পরে সমাজ মাজ্যমে মমতা ব্যানার্জি লেখেন, 'বাংলার জনগণের জন্য আমাদের সংগ্রাম চলবেই| জয় বাংলা।'