আজকাল ওয়েবডেস্ক: ১৫ বছর মসনদে থাকার পর ক্ষমতা হারিয়েছে দল। আর ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে বাড়ছে ভিন্ন সুর ৷ এই পরিস্থিতিতে বিধানসভা ভোটে দলীয় বিপর্যয়ের কারণ খুঁজতে বৃহস্পতিবার কালীঘাটে নিজের বাসভবনে দলীয় সাংসদদের নিয়ে বৈঠকে বসলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। আর সেই বৈঠক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিলেন দলনেত্রী। বছর ঘোরার আগেই ফের লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব কল্যাণ ব্যানার্জির হাতেই তুলে দিলেন মমতা। 

বিধানসভা ভোটে প্রবল বিপর্যয়ের পর তৃণমূল নেত্রী জানিয়েছিলেন, লড়াইয়ের ময়দান ছাড়বেন না তিনি। বরং তাঁর এবার নজর দিল্লিতে। আর সেই কারণেই লোকসভায় এরপর তৃণমূলের ভূমিকা আরও তীক্ষ্ণ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। সেক্ষেত্রে কল্যাণের মতো ডাকাবুকো নেতার ভূমিকা আরও বাড়াতেই মমতা ব্যানার্জির এমন সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে তৃণমূলের অন্দরমহল। পুরনো দায়িত্ব ফিরে পেয়ে কল্যাণ নিজেও যথেষ্ট তৎপর। আজকাল ডট ইন-এর তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ''দল আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছে, সেই দায়িত্ব আমি পালন করব। মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ।''

তৃণমূল সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে কল্যাণের উদ্দেশে মমতা বলেন, ''কল্যাণকে শুভেচ্ছা। আমরা আদালতে সদর্থক লড়াই করেছি। ওরা (পড়ুন বিজেপি) একশ'র বেশি আইনজীবী ঢুকিয়ে দিয়েছিল এজলাসে। সেখানে তারা স্লোগানও দিচ্ছিল।'' এরপরই কল্যাণ বলেন, ''বিজেপির একজন সিনিয়র আইনজীবী প্রথম স্লোগান শুরু করেন। এমন ঘটনা কোথাও দেখা যায় না।'' কল্যাণের কথা শুনেই মমতা বলে ওঠেন, ''গণনার দিন ভবানীপুরে ওদের কাউন্টিং এজেন্ট আমাকে আক্রমণ করেছে। আমি সব সামনে নিয়ে আসব। এমন অবস্থা, যেন সুপার এমার্জেন্সি। ২০২৯-এ ওদের পরাজয় নিশ্চিত।''

২০২৫ সালের অগাস্ট মাসে একাধিক দলীয় সাংসদের সঙ্গে সংঘাতের জেরে লোকসভায় তৃণমূলের মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছিলেন কল্যাণ। তাঁর বদলে লোকসভায় দলের নতুন মুখ্য সচেতকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বারাসতের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। পাশাপাশি কাকলির ছেড়ে যাওয়া পদ অর্থাৎ লোকসভার উপ দলনেতা বা ডেপুটি লিডার করা হয় বীরভূমের তারকা সাংসদ শতাব্দী রায়কে। কিন্তু ২০২৬-এ তৃণমূলের ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর এবার ফের কল্য়াণের উপরই আস্থা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁকে ফিরিয়ে দিলেন লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতকের পদ।