আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাওড়ার পিলখানার প্রোমোটার খুনে কড়া পদক্ষেপ পুলিশের। প্রোমোটারে খুনে তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হল। কলকাতার বউবাজার ও জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে।
ধৃতরা হলেন, মহম্মদ বিলাল ওরফে রিঙ্কু, জোড়াসাঁকো থেকে গ্রেপ্তার। মহম্মদ ওয়াকিল ওরফে মুন্না, দিলদার হোসেনকে বউবাজার থেকে গ্রেপ্তার করে গোলাবাড়ি থানার পুলিশ। সরাসরি খুনের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও এদের বিরুদ্ধে হারুন ও রোহিদকে খুনের পর আশ্রয় ও পালতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৩ (১) অর্থাৎ খুন, ২৩৮ (এ)/ ৩(৫) আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মূল দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
অন্যদিকে সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় যুক্ত থাকার অভিযোগে আরও ছ'জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের বিরুদ্ধেও ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গতকাল বুধবার ভোরে হাওড়ার পিলখানা এলাকায় পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে সফিকুল খান (২৭) নামে এক প্রমোটারকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে ঝাঁঝরা করে দেয় দুষ্কৃতীরা। সিসিটিভি ফুটেজে দুই কুখ্যাত দুষ্কৃতী হারুন খান ও রোহিতকে গুলি চালাতে দেখা গিয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে উঠেছে। কারণ মূল অভিযুক্ত হারুন স্থানীয় তৃণমূল বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা বলে দাবি করেছে বিজেপি।
বুধবার ভোররাত ৪টে ১০ নাগাদ পিলখানার একটি চায়ের দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন সফিকুল। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, হারুন ও রোহিত হেঁটে এসে আচমকাই সফিকুলকে লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি চালায়। প্রায় ৬ রাউন্ড গুলি তাঁর মাথা ও বুক ফুঁড়ে বেরিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। স্থানীয়রা ধাওয়া করার আগেই দুষ্কৃতীরা এলাকা ছাড়ে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বিজেপির রাজ্য নেতা উমেশ রাইয়ের দাবি, "হারুন খান ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল যুব নেতা এবং উত্তর হাওড়ার বিধায়ক গৌতম চৌধুরীর ছায়াসঙ্গী। বিধায়ককে হারুনের বাইকে চেপে প্রচার করতেও দেখা গিয়েছে।" সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই অস্বস্তিতে শাসক দল।
বিজেপির অভিযোগ, অন্য অভিযুক্ত রোহিত একজন কুখ্যাত অস্ত্র ডিলার এবং জেলের আসামী ছিল। বিধায়কের মদতেই এলাকায় সমাজবিরোধীদের বাড়বাড়ন্ত হয়েছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। পাল্টা জবাবে বিধায়ক গৌতম চৌধুরী বলেন, "মিছিলে হাজার হাজার মানুষ আসেন। কে কী কাজে যুক্ত তা সবসময় জানা সম্ভব নয়। অনেকেই বাইকে চড়ার অনুরোধ করে। কিন্তু পরে কে কী অপরাধ করবে তা আগে থেকে বলা যায় না। অপরাধীদের জেলে যেতেই হবে।"
এদিকে সফিকুলের মৃত্যুর খবর ছড়াতেই পিলখানা রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। উত্তেজিত জনতা অভিযুক্ত হারুনের বাইক রাস্তায় বের করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। দমকল বাহিনী আগুন নেভাতে এলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এমনকি পরিস্থিতি সামাল দিতে আসা পুলিশকে ঘিরেও বিক্ষোভ হয়। অভিযোগ, সেই সময় কিছু দুষ্কৃতী অতর্কিতে সেখানে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের ওপর হামলা চালায়। সাংবাদিকদের শারীরিক হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, জনরোষকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। এলাকা এখন থমথমে, মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র্যাফ।
নিহতের পরিবারের দাবি, প্রমোটিংয়ের কাজের জন্য ২ লক্ষ টাকা তোলা চেয়েছিল হারুন ও তার দলবল। সেই টাকা না পেয়েই এই নৃশংস খুন। ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, "দোষীদের ফাঁসি চাই। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার না করা হলে আমরা আসন্ন বিধানসভা ভোট বয়কট করব।" এলাকাবাসীর অভিযোগ, হারুন ও রোহিত এর আগেও একাধিকবার জেলে গিয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই তারা ছাড়া পেয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে।
