আজকাল ওয়েবডেস্ক: গত বছরের বহুচর্চিত খাগড়াবাড়ি হামলা-কাণ্ডে বড় পদক্ষেপ করল পুলিশ। তৎকালীন বিরোধী নেতা এবং বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হল তৃণমূল কংগ্রেসের কোচবিহার ২-এর ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর দেকে। পাশাপাশি আরও দুই তৃণমূল নেতাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুন্ডিবাড়ি থানার পুলিশ। ধৃতরা হলেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্য রঘু সরকার এবং তৃণমূলের প্রাক্তন প্রধান নুর ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত বছরের ৫ আগস্ট ঘোকসাডাঙার খাগড়াবাড়িতে একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দিতে গিয়েছিলেন শুভেন্দু। দুপুরে তাঁর কনভয় খাগড়াবাড়ি চৌপথি এলাকায় পৌঁছতেই বিক্ষোভের মুখে পড়ে। অভিযোগ, সেখানে কালো পতাকা ও তৃণমূলের দলীয় পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। সেই সময় ‘চোর’ স্লোগানও ওঠে বলে অভিযোগ। শুধু বিক্ষোভF নয়, শুভেন্দুর কনভয় লক্ষ্য করে ইট ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। ঘটনার ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করেন শুভেন্দু নিজেই। তিনি দাবি করেছিলেন, তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সেই সময় এই ঘটনাকে ‘খুনের চক্রান্ত’ বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

ঘটনার পরেই রাজ্যের শাসকদল এবং কোচবিহার পুলিশের বিরুদ্ধে সরব হন শুভেন্দু। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন বলে জানা যায়। পরে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে কোচবিহার কোতোয়ালি থানা, ঘোকসাডাঙা থানা এবং পুলিশ সুপারের দপ্তরে ই-মেল মারফত লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। ওই ঘটনায় মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।

পরবর্তীতে রাজনৈতিক পালাবদলের পর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু।এরপর থেকেই পুরনো এই মামলায় নতুন করে তদন্তে সক্রিয় হয় পুলিশ। তদন্তের ভিত্তিতেই শুক্রবার অভিযুক্তদের বাড়ি ঘেরাও করে অভিযান চালিয়ে তিন তৃণমূল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চর্চা শুরু হয়েছে। বিজেপির দাবি, আইন নিজের পথে কাজ করছে। অন্যদিকে, তৃণমূলের একাংশের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে। যদিও পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্তের ভিত্তিতেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।