মিল্টন সেন, হুগলি, ৫ ফেব্রুয়ারি: 'চিচিং ফাঁক' বলতেই সরে গেলো গুহার মুখে থাকা বিশাল পাথর। গুহার ভেতরে সোনাদানা মনি মুক্ত হিরের ছড়াছড়ি। ভেতরে ঢুকে আবার 'চিচিং বন্ধ' বলতেই বন্ধ হয়ে যায় গুহার মুখ। সামনে এগোলেই প্রেক্ষাগৃহ। সেখানেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে চতুর্থ বর্ষ "ছোটদের ছায়াছবি"। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চন্দননগর রবীন্দ্র ভবনে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসবের সূচনা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চন্দননগরের মেয়র রাম চক্রবর্তী, পুর নিগমের কমিশনার সুখময় ভট্টাচার্য্য, ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল, শিশু কিশোর অ্যাকাদেমির সচিব মন্দাক্রান্তা মহালনবিশ, জেলা তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের আধিকারিক প্রবাল বসাক প্রমুখ। বাংলা, ইংরেজি মিলিয়ে ১০টি ছায়াছবি দেখানো হবে। প্রায় ১০ হাজার ছাত্র ছাত্রী এবং তাঁদের অভিভাবক ও শিক্ষক শিক্ষিকারা এই ছায়া ছবি দেখতে পারবেন। চন্দননগরের প্রত্যেক স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের এই পাশ বিনামূল্যে দেওয়া হয়েছে। 'জয়বাবা ফেলুনাথ' ছায়াছবির মধ্যদিয়ে শুরু হয় ছোটদের ছায়াছবি উৎসব।

আয়োজিত উৎসবে চার দিন ধরে প্রেক্ষাগৃহে যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে, দ্যা ক্যারাটে কিড, গোরস্থানে সাবধান,স্পাইডার হোম কামিং, হবু চন্দ্র রাজা গোবু চন্দ্র মন্ত্রী, বাক্স রহস্য, শ্রেফ ফরএভার আফটার ইত্যাদি নানান ছোটদের ছায়াছবি দেখানো হবে। 

রাজ্য শিশু কিশোর অ্যাকাদেমি এবং রাজ্য তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে চন্দননগর পুর নিগমের সহায়তায় ও মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের তত্ত্বাবধানে আয়োজিত ছোটদের ছায়াছবি উৎসব চলবে আগামী চারদিন, ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছোটদের সকলকে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। মেয়র রাম চক্রবর্তী জানিয়েছেন, "সংস্কৃতির শহর চন্দননগর। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উদ্যোগে চন্দননগরের বিধায়ক মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনের তত্ত্বাবধানে শিশুদের জন্য এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে রাজ্য শিশু কিশোর অ্যাকাদেমি ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর। বিগত তিন বছর ধরে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সাধারণত সবসময় বড়দের নানান অনুষ্ঠানের শহরে হয়ে থাকে। কিন্তু এই শহর শিশুদের কথাও ভাবে।" 

ছোটদের জন্য, তাদের কথা ভেবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করার এই উদ্যোগের জন্য রাজ্য তথ্য সংস্কৃতি দপ্তরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেয়র। ডেপুটি মেয়র মুন্না আগরওয়াল জানিয়েছেন, "এই রাজ্য সমস্ত বয়সকেই গুরুত্ব দেয়। আট থেকে আশি সকলেই চন্দননগরের বাসিন্দা। তাই সারা বছর সকলের জন্যই নানান উৎসবের আয়োজন করা হয়ে থাকে।" 

ছোটদের ছায়াছবির এই আয়োজন কারণ, পড়াশোনার পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীরাও যাতে একটু আনন্দ উপভোগ করতে পারে। প্রতিদিন তিনটে করে ছোটদের ছবি প্রদর্শন করা হবে। ছোটদের ছায়াছবির এই উৎসব চতুর্থ বর্ষে পদার্পণ করলো। এবারের থিম রূপকথা। ইন্দ্রনীল সেনের উদ্যোগ ছোটদের ছায়াছবি কলকাতা থেকে বেরিয়ে জেলায় এসেছে। তাই শহরবাসীর তরফে তিনি ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এবং মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে। 

ছবি: পার্থ রাহা।