গোপাল সাহা: বিহারে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনী (এসআইআর)-র পড়ে প্রায় ৬৫ লক্ষ ২০ হাজার নাম বাদ গিয়েছিল। সেই সময় বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সদর্পে ঘোষণা করেছিলেন, বাংলায় এসআইআর হলে এক কোটি ২৫ লক্ষ বাংলাদেশি মুসলমান এবং রোহিঙ্গাদের নাম বাদ যাবে। এরপরে বাংলায় এসআইআর ঘোষণা হয়েছে। গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলনেতার হিসেব কিছুতেই মেলেনি। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জানিয়েছে, ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে এখনও পর্যন্ত সারা রাজ্যে মাত্র তিন হাজার অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। আলটপকা মন্তব্যের জেরে এসআইআর-এ মুখ পুড়ছে বিজেপিরই।

২০২৫ সালের অক্টোবরে বাংলায় এসআইআর শুরু হয়েছে। বর্তমানে শুনানি প্রক্রিয়া চলছে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হবে শীঘ্রই। বৃহস্পতিবার রাজ্য মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জানিয়েছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু থেকে এখনও পর্যন্ত মাত্র তিন হাজার অনুপ্রবেশকারীর সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। কমিশন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, উপযুক্ত তথ্য বা নথি না থাকার কারণে সন্দেহভাজনদের ফরেন রিজওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরআরও)-এর তরফ থেকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাঁদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছে ফরেন রিজওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার।

কমিশন সূত্রে খবর, যে ক’জনের খোঁজ মিলেছে তাঁদের কাছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট রয়েছে কিন্তু ভারতের পাসপোর্ট নেই। এছাড়াও তাঁদের কাছে রয়েছে ভারতীয় আধার ও ভোটার কার্ড। এর ভিত্তিতেই নির্বাচন কমিশন অনুপ্রবেশকারী চিহ্নিত করেছেন। কমিশন আরও জানিয়েছে, শুনানি পর্বে রাজ্যে সমস্ত জেলা মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৫০ হাজার নাম বাদের জন্য আবেদন জানিয়েছেন ইআরও-রা। 

উল্লেখযোগ্য বিষয়, যেখানে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন অনুপ্রবেশকারী সংখ্যাটা ১.২৫ কোটি বা তার বেশি। বাংলায় এসআইআর প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “একটাও রোহিঙ্গা, বাংলাদেশি মুসলমানদের নাম বাংলার ভোটার লিস্টে থাকবে না। বিহারে যদি ৫০ লক্ষ জনের নাম বাদ যায়, বাংলায় এসআইআর-এ ১ কোটি ২৫ লক্ষ বংলাদেশি মুসলমান আর রোহিঙ্গা বাদ যাবে।”

তিনি আরও আশ্বাস দিয়েছিলেন, ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের কারও কোনও অসুবিধা হলে, উপরে মোদিজি যদি গ্যারেন্টার থাকেন, এই রাজ্যের LOP-ও একটা ছোটখাট গ্যারেন্টার।

শুভেন্দুর মন্তব্যের পাল্টা দিয়েছিল তৃণমূলও। বাংলার শাসকদলের অভিযোগ, রাজ্যে সাম্প্রদায়িক অশান্তি ছড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাদের আরও আশঙ্কা ছিল, বাংলায়ও ভোটারতালিকা সংশোধনের নামে মানুষের নাম বাদ দেওয়ার ‘ষড়যন্ত্র’ হতে পারে।