আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন হোলি উৎসবকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের বাড়তি ভিড় সামাল দিতে বিশেষ ট্রেন পরিষেবার ব্যবস্থা করেছে ভারতীয় রেল।
ফলে, আগাম সতর্কতা হিসেবে পূর্ব রেল চলতি বছরে মোট ১০০টি হোলি স্পেশাল ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে যাতে যাত্রীরা নির্বিঘ্নে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেন।
পাশাপাশি, ছুটির মরশুমে ঘুরতে যাওয়ার ক্ষেত্রেও যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয় সেদিকে খেয়াল রেখেও বিশেষ ট্রেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পূর্ব রেলের পরিকল্পিত ৯৪টি হোলি স্পেশাল ট্রেনের মধ্যে কলকাতা–রক্সৌল (বারাউনি হয়ে) রুটে ১০টি ট্রিপ, কলকাতা–মধুবনী (বারাউনি হয়ে) ৮টি ট্রিপ, কলকাতা–গোরখপুর (পাটনা হয়ে) ২০টি ট্রিপ, হাওড়া–আনন্দ বিহার (ঝাঝা–কিউল–গয়া হয়ে) ৮টি ট্রিপ, হাওড়া–খাতিপুরা (ঝাঝা–কিউল–গয়া হয়ে) ৮টি ট্রিপ, কলকাতা–নিউ জলপাইগুড়ি রুটে ২টি ট্রিপ এবং শিয়ালদহ–পুরী রুটে ৮টি ট্রিপ চালানো হবে।
এছাড়াও আসানসোল–গোরখপুর (পাটনা হয়ে) রুটে ৬টি ট্রিপ, মালদা টাউন–আনন্দ বিহার (ঝাঝা–কিউল–গয়া হয়ে) রুটে ৮টি ট্রিপ, মালদা টাউন–উধনা (কিউল–গয়া হয়ে) রুটে ৮টি ট্রিপ এবং মালদা–মুম্বই (কিউল–পাটনা হয়ে) রুটে ৮টি ট্রিপ চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।
রেল কর্তৃপক্ষের মতে, এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবার ফলে হোলি উপলক্ষে যাত্রীদের চাপ অনেকটাই কমবে এবং যাত্রীরা আরও স্বচ্ছন্দে যাতায়াত করতে পারবেন।
বিশেষ করে উৎসবের সময় তীর্থযাত্রীদের জন্য বিশেষ ট্রেন চালানোর কারণে ভিড়ের চাপ কমবে। পূর্ব রেল জানিয়েছে, যাত্রী চাহিদার উপর নিয়মিত নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে নির্দিষ্ট রুটে অতিরিক্ত হোলি স্পেশাল ট্রেন চালানোর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে লক্ষ লক্ষ পুণ্যার্থীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও সুশৃঙ্খল রাখতেও পরিষেবা বাড়িয়েছিল পূর্ব রেলের শিয়ালদহ ডিভিশন।
নির্ধারিত ২৩টি ট্রেনের পাশাপাশি যাত্রীদের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে আরও ৪টি বিশেষ ট্রেন চালু করা হয়েছে। এর ফলে গঙ্গাসাগর মেলায় যাওয়ার জন্য মোট ট্রেন পরিষেবার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৭টি।
শিয়ালদহ ডিভিশনের এই আগাম পদক্ষেপ একটি সুপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার অংশ বলে জানানো হয়েছে। পুণ্যার্থীরা যাতে নিরাপদ ভাবে তীর্থযাত্রায় যেতে পারেন সে কারণেই অগ্রিম এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য রিয়েল-টাইম পরিস্থিতি অনুযায়ী ট্রেন পরিষেবার সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। স্টেশনগুলিতে দীর্ঘ লাইন এড়াতে অ্যাপভিত্তিক টিকিট কাটার জন্য যাত্রীদের বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে, স্টেশনগুলিতে অতিরিক্ত টিকিট কাউন্টার খোলা হয়েছে। পুণ্যার্থীদের সুশৃঙ্খলভাবে যাতায়াতের জন্য বিশেষ হোল্ডিং এরিয়াও তৈরি করা হয়েছে।
স্টেশনের প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় যাত্রী সহায়তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে আরপিএফ কর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি শিয়ালদহ, নামখানা ও কাকদ্বীপ স্টেশনে বাড়তি সাফাইকর্মী নিয়োগ করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হচ্ছে নিয়মিত।
শিয়ালদহ ডিভিশনের ডিআরএম রাজীব সাক্সেনা জানান, ‘পুণ্যার্থীদের সুবিধার্থে যাত্রাপথের গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলিতে ইন্টিগ্রেটেড হেল্প ডেস্ক, চিকিৎসা সহায়তা কেন্দ্র ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শিয়ালদহ ডিভিশন প্রতিটি পুণ্যার্থীর নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রেনের সংখ্যা বাড়িয়ে আমরা চাই গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নানের যাত্রা আরও শান্তিপূর্ণ হোক।’
