আজকাল ওয়েবডেস্ক: তালসারির সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট চাঞ্চল্য ফেলেছে। জানা গিয়েছে, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর। অতিরিক্ত পরিমাণে বালি ফুসফুসে ঢুকে পড়ায় শ্বাসরোধ হয়ে যায়। ফলে ফুসফুস ফুলে দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। বেশ কিছু সময় জলের তলায় থাকার ফলেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তালসারি বিচ দিঘার মতো নিরাপদ নয়। সমুদ্র অত্যন্ত ভয়ানক। বিচের জলের তলায় যেখানে সেখানে হঠাৎ হঠাৎ বালির উঁচু ঢিবি তৈরি হয়। আবার তৈরি হয় মারাত্মক বিপজ্জনক গর্ত। তবে এগুলো স্থায়ী নয়। যখন তখন তৈরি হয় আবার ভেঙেও যায়।
এখানে মোহনা থাকায় জোয়ার-ভাটার সঙ্গে সঙ্গে জলের স্তর ওঠানামা করে। ধনুকের মতো আকৃতির এই সৈকতে ক্রমাগত পলি জমা হয় এবং জোয়ারের সময় তা সরে যায়। ফলে হঠাৎ করেই চোরাবালির সৃষ্টি হয়। জলের স্রোতে চোরাবালির ঘূর্ণিও তৈরি হয় যা উপরের জল দেখে স্বাভাবিক চোখে ধরা পড়ে না। এই চোরাবালিতে পা পড়লে মুহূর্তের মধ্যে মানুষ তলিয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে চোরাবালির স্রোতে পড়লে সেখান থেকে বেঁচে ফেরা অত্যন্ত কঠিন।
প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, তালসারিতে ভাটার সময় পর্যটকদের বিচে ঘোরার অনুমতি থাকলেও সমুদ্রে নামার কোনও অনুমতি নেই। কিন্তু অভিযোগ, শুটিংয়ের জন্য কোনওরকম প্রশাসনিক অনুমতি নেওয়া হয়নি। তালসারি কোস্টাল থানার পুলিশের পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, আগে থেকে জানানো হলে অবশ্যই সতর্ক করা হত এবং সমুদ্রে নামতে নিষেধ করা হত।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন, তলিয়ে যাওয়ার পর নৌকা নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে অভিনেতাকে উদ্ধার করা হয়। তবে শুটিংয়ের সময় স্থানীয় কাউকেই বিষয়টি জানানো হয়নি। ফলে এলাকাটির বিপজ্জনক চরিত্র সম্পর্কে প্রোডাকশন টিম অবগত ছিল না বলেই মনে করা হচ্ছে।
ঘটনার পর আহত অবস্থায় রাহুলকে ওড়িশা থেকে পশ্চিমবঙ্গের দিঘা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটলেও পুলিশ পরে বিষয়টি জানতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, অতীতেও এখানে একাধিক তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সেই কারণেই বর্তমানে পর্যটকদের জলে নামতে দেওয়া হয় না।
তাঁদের মতে, স্থানীয়দের সঙ্গে যোগাযোগ করলে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা নিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। পাশাপাশি শুটিং সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও অনুমতি নিয়েও উঠছে একাধিক প্রশ্ন।















