মিল্টন সেন, হুগলি: মঙ্গলবার তারকেশ্বর ধামকে আন্তর্জাতিক তীর্থক্ষেত্র ও শ্রাবণী মেলাকে জাতীয় মেলার রূপ দেওয়া-সহ একাধিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারকেশ্বরের উন্নয়ন শুধু এলাকাবাসীর স্বার্থে নয় বরং সেখানকার ঐতিহ্য, গরিমাকে সর্বত্র পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য বলে জানালেন মুখ্যমন্ত্রী।
মঙ্গলবার তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলা আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন শুভেন্দু অধিকারী। এ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, তারকেশ্বর ধামের মোহন্ত মহারাজ, কার্তিক মহারাজ সহ একাধিক বিশিষ্ট সাধু সন্তরা। এ দিন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, "তারকেশ্বরের ঐতিহ্য সকলের কাছে পৌঁছলে এখানে মানুষ আসবে। ধর্মীয় পর্যটনের ক্ষেত্রে আমরা বাইরের রাজ্য এবং বিদেশি পর্যটকদের পাব। এই আস্থার কেন্দ্র ধীরে ধীরে সেজে উঠবে। যেভাবে প্রধানমন্ত্রীর হাট ধরে উজ্জয়িনী মহাকাল সেজে উঠেছে। কাশি বিশ্বনাথ ধাম সেজে উঠেছে। অযোধ্যার পবিত্র রাম মন্দির সেজে উঠেছে। চারধামের একধাম কেদারনাথ বদ্রীনাথ ধাম আদি গুরু শঙ্করাচার্যর সমাধি ক্ষেত্র সেজে উঠেছে। যেভাবে পুরী ধাম সেজে উঠছে একইভাবে আগামী দিনে তারকেশ্বর ধাম সেজে উঠবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার রাষ্ট্রবাদ, দেশপ্রেম ও ভারতবর্ষে অনন্তকাল ধরে যে সংস্কৃতি এবং যে ঐতিহ্য বিরাজমান তাকে সম্মান মর্যাদা দিয়ে রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সবসময় বলেন, 'বিকাশ ভি হোগা, বিরাসত ভি হোগা'। অতএব আমাদের উন্নয়ন, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি, আধ্যাত্মিকতাবাদ-এটা ধরে রাখা প্রত্যেকটি নির্বাচিত সরকারের কর্তব্য। আমরা মনেকরি, তারকেশ্বর ধাম অবহেলিত ছিল। আমরা বেসরকারি ভাবে নানান সামাজিক প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে এই মেলা চলাকালীন পূর্ণার্থীদের সেবা দান করার ক্ষেত্রে যোগদান করেছিলাম।"
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা দেখেছি বিগত সরকার এক চোখ বন্ধ করে রাখতেন। লোক ধর্ম পালন করতে গেলে, কোনও সরকারের একটা চোখ বন্ধ রাখা উচিত নয়, দুটো চোখ খুলে রাখা উচিত। পবিত্র পূর্ণ জল সংগ্রহ করে তিরিশ কিলোমিটার পূর্নার্থীরা অত্যন্ত বিপদসঙ্কুল পথ পেরিয়ে তারকেশ্বরে তাঁদের আস্থার মহোৎসবে যোগ দিতেন। আমরা পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান সরকার এবারে প্রভু জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা কেও আরও বেশি বর্ণময় করার উদ্যোগ নিয়েছি।"
তিনি জানান, একইভাবে আমরা তারকেশ্বর ধাম পুণ্য ধামে শ্রাবণী মেলায় অনেক উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। শেওরাফুলি থেকে তারকেশ্বর ধাম পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার অন্তর অন্তরসরকারী সেবা কেন্দ্র থাকবে। প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিষেবা, জল, ওআরএস-সহ ন্যূনতম সেবা এবং বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতার ব্যবস্থা থাকবে। প্রশাসন এবং পুলিশ আধিকারিকরা, পূর্ণার্থীদের জন্য ট্রাফিক এবং যানজট নিয়ন্ত্রণ করে সুরক্ষিত যাতায়াতের ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি যতটা সম্ভব পথ আলো দিয়ে সুসজ্জিত করার কাজ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, "আমি উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে দেখে উৎসাহিত হয়েছি। সেখানেও যারা জলযাত্রীরা যান তাঁদের উপর আকাশ থেকে হেলিকপ্টারে পুষ্প বৃষ্টি হয়। এখানেও প্রতি সোমবার রাজ্য সরকারের পরিবহন দপ্তরের হেলিকাপ্টার পুষ্প বৃষ্টি, গোলাপ বৃষ্টি করতে থাকবে।"
তিনি জানান, বর্তমান সরকার তীর্থক্ষেত্র সার্কিট তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মুর্শিদাবাদের কিরিটিশ্বরী থেকে কোচবিহারের মদনমোহন জিউ হয়ে জলপাইগুড়ির জল্পেশ হয়ে বীরভূমের তারাপীঠ পর্যন্ত একটি তীর্থক্ষেত্র সার্কিট তৈরি হবে। তার জন্য আগামী দুবছর এক হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।
















