পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার প্রথম কিস্তির টাকা ইতিমধ্যেই প্রায় ১.১ কোটি মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পাঠানো হয়েছে। তবে বহু আবেদনকারী এখনও পর্যন্ত কোনও টাকা পাননি। কেন এই সমস্যা হচ্ছে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
2
16
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, এই প্রকল্পে মোট প্রায় ১.৬ কোটি আবেদন জমা পড়েছিল। যাচাই-বাছাইয়ের পর ২৬ লক্ষ আবেদন বাতিল করা হয়েছে।
3
16
আবেদন বাতিলের কারণগুলির মধ্যে রয়েছে আবেদনকারীর মৃত্যু, নাগরিকত্ব বা স্থায়ী বাসিন্দা সংক্রান্ত সমস্যা, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং একাধিক অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের মতো বিষয়।
4
16
মুখ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি অর্থ শুধুমাত্র প্রকৃত যোগ্য উপভোক্তাদের কাছেই পৌঁছে দিতে এই কঠোর যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হয়েছে।
5
16
যদি আপনার আবেদন পোর্টালে আপলোড হয়ে থাকে কিন্তু এখনও টাকা না এসে থাকে, তাহলে এর পিছনে এক বা একাধিক কারণ থাকতে পারে।
6
16
প্রথমত, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় নাও থাকতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই আধার নম্বর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংযুক্ত না থাকলে টাকা জমা হয় না। তাই দ্রুত নিজের ব্যাঙ্কে গিয়ে আধার লিঙ্ক এবং ডিবিটি অবস্থা যাচাই করা উচিত।
7
16
দ্বিতীয়ত, আবেদনপত্রে নামের ভুল বা অমিল বড় সমস্যা হতে পারে। আবেদনপত্রে দেওয়া নাম যদি আধার কার্ড বা ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের নামের সঙ্গে না মেলে, তাহলে টাকা আটকে যেতে পারে। তাই প্রয়োজন হলে দ্রুত সংশোধন করা জরুরি।
8
16
তৃতীয়ত, একই মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক আবেদন করা হলেও সমস্যা হতে পারে। প্রত্যেক আবেদনকারীর জন্য আলাদা মোবাইল নম্বর এবং আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
9
16
চতুর্থত, একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকলে কোন অ্যাকাউন্টে ডিবিটি সক্রিয় রয়েছে তা নিশ্চিত করতে হবে। আবেদনপত্রে যে অ্যাকাউন্টের তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটিই সক্রিয় এবং ডিবিটি সক্ষম হওয়া আবশ্যক।
10
16
এছাড়া প্রকল্পের যোগ্যতা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়মও রয়েছে। আবেদনকারী বা তাঁর পরিবারের কোনও সদস্য স্থায়ী সরকারি কর্মচারী বা সরকারি পেনশনভোগী হলে এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া যাবে না।
11
16
একইভাবে, আবেদনকারী বা পরিবারের কোনও সদস্য আয়কর প্রদানকারী হলে তিনিও এই প্রকল্পের আওতায় থাকবেন না। সরকার আরও জানিয়েছে, ভুয়ো তফসিলি জাতি শংসাপত্র বা জাল প্রতিবন্ধী শংসাপত্র জমা পড়লে আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে।
12
16
সবশেষে বলা যায় ঘরে ঘরে যাচাই সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত অনেক আবেদনকারীর টাকা আটকে থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনপত্র এবং নথিপত্র যাচাই শেষ করার পরই অর্থ ছাড়া হবে।
13
16
উল্লেখ্য, অন্নপূর্ণা যোজনা চালু করেছে বর্তমান বিজেপি সরকার। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য মহিলাদের প্রতি মাসে ৩,০০০ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এটি আগের সরকারের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের পরিবর্তে চালু করা হয়েছে।
14
16
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য ৩৬,০০০ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি মহিলা, শিশু উন্নয়ন ও সমাজকল্যাণ দপ্তরের জন্য মোট ৫২,৩০৮ কোটি বরাদ্দ করা হয়েছে, যার বড় অংশই এই সরাসরি নগদ সহায়তা প্রকল্পে ব্যয় হবে।
15
16
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধাভোগীদের মধ্যে ২৬.৫ লক্ষেরও বেশি তফসিলি জাতিভুক্ত মহিলা, প্রায় ৫ লক্ষ তফসিলি উপজাতিভুক্ত মহিলা এবং ১.২ লক্ষেরও বেশি গোর্খা সম্প্রদায়ের মহিলা রয়েছেন। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত জনকল্যাণ শিবিরে জমা পড়া আবেদনের ভিত্তিতে আরও ৮.১৫ লক্ষ নতুন নাম প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
16
16
যাঁরা এখনও টাকা পাননি, তাঁদের উচিত উপরের বিষয়গুলি একবার ভালোভাবে যাচাই করা এবং প্রয়োজনে ব্যাঙ্ক বা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা।