আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরই তৃণমূল ভেঙে চুরমার। মাথাচাড়া দিয়েছে 'বিদ্রোহী' গোষ্ঠী। ক্রমেই তারা নিজেরে 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করছে। 'বিদ্রোহী'দের 'বেইমান' বলে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে কালীঘাটপন্থী তৃণমূল শিবির। তার মধ্যেই বারবার দলের শুদ্ধিকরণের তত্ত্ব তুলে ধরছেন কুণাল ঘোষ। তিনি সব 'বিদ্রোহী'কেই চড়া সুরে আক্রমণে নারাজ। সেই সঙ্গেই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়কের স্পষ্ট কথা, 'মেদ ঝরছে। নতুন মুখ আসছে।' তাহলে কী ২১ জুলাইয়ের আগেই তৃণমূলে বড় কোনও রদবদলের ইঙ্গিত?
ফেসবুক পোস্টে কী লিখেছেন কুণাল?
'বিদ্রোহী' শিবিরের সকলের ক্ষেত্রে একই মূল্যায়ণে নারাজ কুণাল ঘোষ। তিনি লিখেছেন,'কুরুক্ষেত্রে হঠাৎ কেন অর্জুন confused হয়ে পড়েছিলেন, খানিকটা বুঝতে পারছি। গান্ডীব তুলবেন কোন্ দিকে? প্রতিপক্ষেও তো চেনা মুখ; কেউ অতি পরিচিত, প্রিয়। কেউ অনেক বর্ষীয়ান, অভিজ্ঞ, দীর্ঘ লড়াকু। শুধু আজকের অবস্থানে দাঁড়িয়ে দুম করে তির ছুঁড়লেই হল? সবার ক্ষেত্রে মূল্যায়ন সমান হয় নাকি?'
অনেকেই চাপে পড়ে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন বলেও দাবি কুণালের। তিনি লেখেন, 'তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীসমর্থকদের কাছে অনুরোধ, হ্যাঁ, আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৈনিক। দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এখন যাঁরা 'ভালো' সাজতে নেমেছে, তাদের সুবিধেবাদী অবস্থান সমালোচনার যোগ্য। ধর্ষণে অভিযুক্ত প্রতারক চাটনকুমার আর কয়েকটা ধান্দাবাজ, লোভী, বিপুল সম্পত্তি বাঁচাতে যাওয়া গিরগিটির নিন্দা করুন। কিন্তু, এক বন্ধনীতে সকলকে এনে আক্রমণ করবেন না। অনেকের উপর চাপ আছে, অনেকের কিছু অভিমান বা রাগ আছে, নির্দিষ্ট কিছু বক্তব্য আছে। তাঁদের অনেকেই কথা বলছেন। এঁরা কেউ কেউ মমতাদির আন্দোলনের দীর্ঘকালের সঙ্গী। ফলে, এখনই সকলকে এক বন্ধনীতে ফেলে আক্রমণ করবেন না।'
এরপরই মমতাপন্থী তৃণমূলের উত্তর কলকাতা জেলা সভাপতির বার্তা, 'এখন আমাদের ঘর গোছানোর সময়। মেদ ঝরছে। নতুন মুখ আসছে। প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও আমরা বলতে পারছি 'বেইমান নই।' মানুষ দেখছেন।'
কুণালের কলমে উঠে এসেছে 'বেনজির 'শুভেন্দ মডেল' প্রসঙ্গও। তিনি লিখেছেন, 'মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি বেনজির মডেল সামনে আনছেন। সরকার তিনি চালাচ্ছেন। তথাকথিত তাঁদের স্বীকৃত বিরোধী দলও তাঁরই নিয়ন্ত্রণে, পুতুলনাচের সুতো বাঁধা পুতুল। এটা শুভেন্দু ছলে-বলে-কৌশলে পেরেছেন।'
শেষে দৃঢ় অঙ্গীকার ও শুদ্ধিকরণের কথা তুলে ধরেছেন পোড়খাওয়া কুণাল ঘোষ। ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ, 'পরিস্থিতি জটিল। তার মধ্যে আমরা মমতাদির নেতৃত্বে লড়াই চালাচ্ছি। আমরা লড়ব। কিন্তু বন্ধু, প্রতিপক্ষে নাম লেখানো সকলকে, বিশেষত সিনিয়র অনেককে, এক বন্ধনীতে আক্রমণ না করার অনুরোধ থাকল। আমাদেরও কিছু ভুলত্রুটি ছিল। সেটা মেনে নিয়ে মেরামতিও দরকার।'
পোস্টের একদন শেষে কুণাল লিখেছেন, 'যাঁরা কঠিন সময়ে দিদির হাত ছাড়ছেন, তাঁদের অধিকাংশই সবরকমভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত দিদি ও দলের সৌজন্যে। আজ ক্ষমতা নেই বলে উল্টোছুট? মানুষ দেখছেন। জনদরবারে বিচার হবে। আসুন, আমরা আগে ঘর সাজাই। কয়েকটা বেইমানকে সমালোচনা চলুক। এগুলো সাপ। কিন্তু, অনুরোধ, সকলকে এক বন্ধনীতে ফেলবেন না। সময় এগোতে দিন।'
















