আজকাল ওয়েবডেস্ক: একে দলের ধরাশায়ী অবস্থা। তার মধ্যেই মমতা ব্যানার্জির কালীঘাট তৃণমূলে অন্দরে সংঘাত দিনদিন বেড়েই চলেছে। বিধানসভা নির্বাচনে হারের পর দলের প্রায় সব নেতারই নিশানায় রয়েছে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জি। মাঝে শ্রীরামপুরের সাংসদ তথা অভিজ্ঞ আইনজবী কল্যাণ ব্যানার্জি রীতিমতো আক্রমণ শানিয়েছিলেন অভিষেককে। বলেছিলেন, "মমতাদি'কে বাছতে হবে হয় আমি, নয় অভিষেক।" যদিও এরপরই অভিষেক বলেন, ''তিনি আমাকে ছোটবেলা থেকে চেনেন এবং আমার বেড়ে ওঠার সময়ও পাশে ছিলেন। তাই তিনি যদি আমাকে সমালোচনা করেন, সেই অধিকারও তাঁর আছে।" তাতে বরফ গলেছিল বটে। কিন্তু তা স্থায়ী হল না। ফের অভিষেকই নিশানা করলেন কল্যাণ। তবে, এবার সরাসরি নয়, সূত্রের খবর, অভিষেকের আপ্তসহায়ক সুমিত রায়ের প্রসঙ্গ টেনে বকলমে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদকেই দলের ভরাডুবির কারণ হিসেবে দায়ী করলেন। 

কী বলেছেন কল্যাণ? সূত্রের খবর, শ্রীরামপুরের সাংসদ বলেন, ''ক্যামাক স্ট্রিটে সুমিত রায়ের সঙ্গে দলের যারা যারা কথা বলত, হয়ত দলীয় সংগঠন চালানোর জন্য বেশি কথাবার্তা বলত, তাদের এখন ডেকে ডেকে পুলিশ বলছে, ওই শালবনির কেসের সঙ্গে তাঁদের যোগ আছে। বেশি যদি বাড়াবাড়ি করো, ঢুকিয়ে দেব। এটাই এখন পুলিশ করছে। শুনছি নাকি এমনও বলা হচ্ছে, ঋতব্রতর ক্যাম্পে যাও, না হলে ধরে নিয়ে যাব। সুমিত রায়ের জন্য আজ অসংখ্য ছেলে এই পরিস্থিতির মুখে পড়ছে। ক্যামাক স্ট্রিটটাই শেষ করে দিল আমাদের।” 

এখানেই শেষ নয়, কল্যাণের এবার টেনেছেন আইপ্যাকের প্রসঙ্গও। ঋতব্রতপন্থীদের প্রতি তিনি বলেন, “তোমরাই তো আইপ্যাককে মাথায় তুলেছ। তোমরাই তো ওর (অভিষেকের) সঙ্গে ছিলে, ওর থেকে সব পেয়েছ।” কল্যাণের দাবি, সবচেয়ে সুবিধাভোগীরাই আজ অভিষেকের বিরুদ্ধে সবথেকে বেশি মুখ খুলছে। সুমিত দিনে দু’বার কথা বললে ভাবত জীবন ধন্য হয়ে গিয়েছে। যখন আমি আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছি তখন তো আমার পাশে কেউ দাঁড়াননি। আইপ্যাক-এর থেকে সব সুবিধা নিয়ে নিজেদের নেতা বলে প্রতিষ্ঠা করেছে। আজ তারাই অভিষেকের বিরুদ্ধে বলছে।”

এর আগে যদিও শ্রীরামপুরের সাংসদ অভিষেককে নিশানা করে বলেছিলেন, "ওর এত ঔদ্ধত্যের কী আছে! সময় থাকতে শিক্ষা পেল না। আমি তো ক্যামাক স্ট্রিটের কর্মী নই। আজকে বুঝতে হবে, ওর জন্য দলটার সর্বনাশ হয়েছে। এখনও যদি ওটা না বোঝে, তাহলে কিছু করার নেই।” এবার সেই সংঘাতের পরিস্থিতি আবার কি ফিরে এল, চিন্তায় কালীঘাট তৃণমূল।