প্রায় ১০ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ, জমি জালিয়াতি মামলায় গ্রেপ্তার সোনা পাপ্পু

Sona Pappu

আজকাল ওয়েবডেস্ক: জমি জালিয়াতি মামলায় ইডির হাতে গ্রেপ্তার সোনা পাপ্পু। সোমবার সকালে ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু।

ইডি সূত্রে খবর, প্রায় ১০ ঘণ্টা তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার রাতেই ইডির হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি। তিনি জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগিতা করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রায় সাড়ে তিন মাস ধরে ফেরার ছিলেন সোনা পাপ্পু। তাঁর বিরুদ্ধে জমি জালিয়াতি, তোলাবাজির অভিযোগ রয়েছে। সোমবার সকালে হঠাৎই ইডি দপ্তরে হাজিরা দেন তিনি।

এর আগে একাধিকবার তাঁকে খুঁজেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। কিন্তু নাগাল পায়নি কোনওদিনই। এরপর এপ্রিল মাসের শুরুতেই একাধিক জায়গায় অভিযান চালায় ইডি।

যদিও শেষ পর্যন্ত সোনা পাপ্পুর নাগাল পায়নি ইডি। সেই বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পু সোমবার সকালে সরাসরি ইডি দপ্তরে এসে হাজির হন। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, তিনি বাড়িতেই ছিলেন, তাঁকে দেখা করতে বলা হয়েছিল, তাই তিনি দেখা করতে এসেছেন।

এর আগে জমি জালিয়াতি মামলায় জয় কামদার ও শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেপ্তার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। যদিও সোনা পাপ্পুর নাগাল কোনওভাবেই পায়নি ইডি। এদিন সকালে হঠাৎই তিনি হাজির হন ইডি দপ্তরে।

তাঁকে সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, 'আমি কোনও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত নই। আমি, আমার বাবা দু'জনেই সোনার ব্যবসায়ী। কোনওদিন কোনও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে আমি যুক্ত নই। জয় এস কামদারের সঙ্গে আমি পরিচিত, ব্যবসায়িক কোনও লেনদেন হয়নি। আমি কোনওদিন কোনও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত নই, কোনও অবৈধ আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত নই।'

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রে খবর, আর্থিক প্রতারণা ও তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ রেয়েছে সোনা পাপ্পুর বিরুদ্ধে। এর আগে একাধিকবার তাঁকে তলব করা হয়েছিল, যদিও হাজির হননি সোনা পাপ্পু।

বদলে ফেসবুক লাইভ করে নিজেকে নির্দোষ বলে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছিলেন। ইডির খাতায় কলমে অবশ্য় এতদিন নিখোঁজ ছিলেন, কিন্তু এদিন ইডি দপ্তরে হাজির হওয়ার সময় সাংবাদিকরা জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, 'আমি কোথাও পালিয়ে যাইনি, বাড়িতেই ছিলাম।'

ফলে নিখোঁজ হওয়ার তত্ত্বও অস্বীকার করেছেন তিনি। এর আগে কলকাতা পুলিশের ডিসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে গ্রেফতার করে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। জমি দুর্নীতি তোলাবাজির ক্ষেত্রে যে বিশাল চক্র কাজ করেছে, শান্তনু, বিশ্বজিৎ থেকে জয় এস কামদার, সকলেই জড়িত বলে মনে করা হচ্ছে।