আজকাল ওয়েবডেস্ক: দু'দিনের পশ্চিমবঙ্গ সফরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। শুরুতেই মালদহ টাউন স্টেশন থেকে তিনি রেলের প্রকল্প উদ্বোধন করবেন। মোদির এই সফর ঘিরে বিতর্ক বাড়ল। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে তাদের অফিসাল এক্স হ্যান্ডেলে একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়েছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে যে, একটি রেলস্টেশনে এক ব্যক্তিকে মারধর করা হচ্ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধনের কর্মসূচির আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতি-বাড়াবাড়ির জেরে এই 'নক্কারজনক' ঘটনা ঘটেছে।

সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্স-এ ভিডিওটি শেয়ার করে বাংলার শাসক দল কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় তাদের অতিসক্রিয়তা তুলে ধরতেই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ গরিব মানুষদের হয়রানি করছে। তাঁদের ভয় দেখাতে মারধর করা হচ্ছে। তারপর স্টেশন থেকে তাড়ানো হচ্ছে।

টিএমসি প্রশ্ন তুলেছে, "এভাবেই কি নরেন্দ্র মোদি ভারতের দরিদ্রদের স্বাগত জানান?" তৃণমূল অভিযোগ করেছে যে, মানুষকে নাগরিক হিসেবে না দেখে বাধা-বিপত্তি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দলটি দাবি করেছে যে, এই ঘটনাটি এমন এক শাসনের মডেল প্রতিফলিত করছে- যা মানবতার চেয়ে প্রচারসর্বস্বতাকেই বেশি অগ্রাধিকার দেয়।

এক্স-পোস্টে তৃণমূল লিখেছে, 'আজ যখন প্রচার মন্ত্রী পশ্চিমবঙ্গে আসছেন, তখন আমাদের প্রশ্ন করতে হবে। নরেদ্র মোদি কি এভাবেই ভারতের দরিদ্রদের স্বাগত জানান? কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে প্রান্তিক মানুষদের ভয় দেখিয়ে, হয়রানি করে এবং সরিয়ে দেয়, যাতে একটি ফটো তোলার সুযোগটি পরিষ্কার এবং নিরবচ্ছিন্ন থাকে। এটাই মোদির শাসনের বাস্তবতা। মানবতার চেয়ে বাহ্যিক চাকচিক্যকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। সেবার চেয়ে প্রদর্শনকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। মোদির ভারতে, এই ঘটনা মঞ্চস্থ করা হয়, ক্যামেরা পাহারা দেওয়া হয়, এবং দরিদ্রদের নাগরিক নয়, বরং বাধা হিসেবে গণ্য করা হয়। ক্যামেরা সুরক্ষিত থাকে। মানুষ নয়।'

শনিবার মালদহ টাউন রেলওয়ে স্টেশন থেকে হাওড়া এবং গুয়াহাটি (কামাখ্যা)-এর মধ্যে ভারতের প্রথম বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেনের উদ্বোধন করবেন মোদি। প্রধানমন্ত্রী ৩,২৫০ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের রেল ও সড়ক পরিকাঠামো প্রকল্পের উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন এবং এরপর একটি জনসভায় ভাষণ দেবেন।

ভারতীয় জনতা পার্টি সরাসরি তৃণমূলের অভিযোগ নিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে প্রধানমন্ত্রী এর আগে এক্স-এ পোস্ট করে বলেছেন যে তিনি মালদহের মানুষের মাঝে থাকার জন্য উন্মুখ। মোদি তৃণমূলের "দুঃশাসনের" অভিযোগ তুলে ধরে দাবি করেছেন যে, আগামীতে রাজ্য (পশ্চিমবঙ্গ) একটি উন্নয়নমুখী সরকারের জন্য প্রস্তুত।

পশ্চিমবঙ্গে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর এই সফর ভোটার তালিকার চলমান বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) এবং পরামর্শদাতা সংস্থা আই-প্যাক-এর উপর সাম্প্রতিক এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের অভিযান নিয়ে বিজেপি এবং তৃণমূলের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ চলছে। তৃণমূল, বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভোটারদের হয়রানি করার অভিযোগ তুলেছে, যা বিজেপি অস্বীকার করেছে। বিজেপি-র যুক্তি, এই সংশোধনের লক্ষ্য হল তালিকা থেকে অবৈধ নাম বাদ দেওয়া।

মালদহ পর প্রধানমন্ত্রী অসমে যাবেন এবং ১৮ জানুয়ারি সরকারি কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। ওইদিনই হুগলি জেলার সিঙ্গুরে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে পশ্চিমবঙ্গে ফিরে আসার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। চলতি বছরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হবে বাংলায়। তাই মোদির এই বাংলা সফর বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।