আজকাল ওয়েবডেস্ক: কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক অবশেষে অমিত শাহের অধীনস্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে থাকা কেন্দ্রীয় বাহিনীর সুরক্ষা পেলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
বুধবারে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ১১ জনের একটি দল হুমায়ুন কবীরের মানিক্যহারের বাড়িতে পৌঁছে গিয়েছে। এখন থেকে হুমায়ুন কবীরের সুরক্ষায় ১১ জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের মধ্যে ছ'জন সব সময় মোতায়েন থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী নিরাপত্তা পাওয়ার পর আজ থেকেই হুমায়ুন কবীর নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা রক্ষীদের ছেড়ে দিয়েছেন বলে সূত্রের খবর। বিভিন্ন কর্মসূচিতে আজ থেকে হুমায়ুন কবীর কেন্দ্রীয় সুরক্ষা নিয়ে যাতায়াত শুরু করেছেন। হুমায়ুনকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফ থেকে ওয়াই ক্যাটাগরির সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কেন্দ্রীয় বাহিনী জওয়ানদের জন্য হুমায়ুন কবীরের পরিবারের তরফ থেকে তাঁদের বসতবাড়ির ঠিক উল্টোদিকে অবস্থিত অন্য একটি বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের থাকা এবং খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
দল বিরোধী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত ডিসেম্বর মাসে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে হুমায়ুনকে সাসপেন্ড করা হয়। এর কিছুদিনের মধ্যেই তিনি নিজের রাজনৈতিক দল 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' তৈরি করেন । তবে নতুন রাজনৈতিক দল খোলার পর নিজের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় গত জানুয়ারি মাসে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর।
হুমায়ুনের এই আবেদনে সাড়া দিয়ে জানুয়ারি মাসের মাঝামাঝি নাগাদ কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রককে নির্দেশ দেন হুমায়ুনের আবেদন বিচার করে দেখার জন্য।
সূত্রের খবর, আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর ফের হুমায়ুনকে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা চেয়ে কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রণালয়ে ফের আবেদন করতে হয়েছিল।
সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরকে জানানো হয় আদালতের নির্দেশের পর কেন্দ্রীয় গৃহ মন্ত্রক কর্তৃক তাঁর আবেদন গৃহীত হয়েছে এবং তিনি কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পেতে চলেছেন ।
বর্তমানে হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে ছ' জন বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াও রাজ্য পুলিশের দু'জন সশস্ত্র জওয়ান থাকেন। কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা পাওয়ার পর তাঁর সঙ্গে আর বেসরকারি নিরাপত্তা রক্ষীরা থাকবেন না।
