দীক্ষা ভুঁইয়া: আগামী সোমবারই রাজ্যের শতবর্ষের ঐতিহ্য বহন করে চলা রথযাত্রা কমিটি গুলির হাতে পাঁচ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তরফে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৫টি শতবর্ষপ্রাচীন রথযাত্রা কমিটিকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্রের খবর, মূলত রাজ্যের শতবর্ষ পুরনো রথযাত্রাগুলিকে সংরক্ষণ ও উৎসাহ দিতেই রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ। পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসবগুলিকে আরও সুসংগঠিত করার বার্তা দিতে চাইছে সরকার।
প্রথম পর্যায়ে ২৫ টি রথযাত্রা কমিটি গুলিকে বাছাই করা হলেও ভবিষ্যতে এই তালিকা বাড়বে বলেই প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে ইসকনের রথযাত্রা, মাহেশের ঐতিহ্যবাহী রথ, মহিষাদল রাজবাড়ির রথ, নবদ্বীপ জগন্নাথ মন্দিরের রথযাত্রা এবং কলকাতার বাগবাজার জগন্নাথ মহাপ্রভু মন্দির পরিচালন সমিতির মতো বহু প্রাচীন ও ঐতিহাসিক রথযাত্রা কমিটি।
শুধু আর্থিক অনুদানেই সীমাবদ্ধ থাকছে না সরকারের উদ্যোগ। রথযাত্রার দিন ভক্তদের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে বিশেষ পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। যে পথ দিয়ে রথ অতিক্রম করবে, সেই পথে নির্দিষ্ট দূরত্ব অন্তর সেবা শিবির তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি শিবির পরিচালনার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
এই সেবা শিবিরগুলিতে বিশুদ্ধ পানীয় জল, ওআরএস প্যাকেট, প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি স্বাস্থ্য পরিষেবা, তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্রের পাশাপাশি প্রবীণ, মহিলা, শিশু এবং বিশেষভাবে সক্ষম ভক্তদের জন্য আলাদা সহায়তার ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, রথযাত্রা উপলক্ষে রাজ্যের সমস্ত জেলা শাসকদেরও আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। উৎসবের আগে জেলা প্রশাসনকে পুলিশ, স্বাস্থ্য দফতর, দমকল, পূর্ত দফতর, পুরসভা ও পঞ্চায়েত, পরিবহণ দফতর, সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটি, জনপ্রতিনিধি এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় বৈঠক করতে বলা হয়েছে। লক্ষ্য একটাই—ভিড় নিয়ন্ত্রণ, নির্বিঘ্ন যান চলাচল, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা নিশ্চিত করে রাজ্যের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসবকে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করা।















