আজকাল ওয়েবডেস্ক: শুক্রবার বিধানসভায় অধিবেশন ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে বাগযুদ্ধে জড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চ্যাটার্জি। মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছিলেন, কেউ ঘরছাড়া বলে জানা নেই। কিন্তু রাজ্যে ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি ফের সামনে উঠে এল। জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী স্বপ্না বর্মনের বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ তুলেছেন অ্যাথলিট নিজেই। ফেসবুকে একটি পোস্টও করেছেন তিনি।

ফেসবুকে স্বপ্না লিখেছেন, “আগে যদি জানতাম এমনটা হবে তাহলে আমি সত্যিই আসতাম না। আজকে আমার বাড়িটাও জ্বালিয়ে দিল।” 

জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে রাজগঞ্জে স্বপ্নার বাড়িতে আগুন লাগে। এই  ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পুলিশ ও দমকল বাহিনী দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। জানা গিয়েছে, বাড়িটিতে কেউ থাকতেন না। তাই বড় বিপদ এড়ানো গিয়েছে। তবে কীভাবে আগুন লাগল, তা এখনও জানা যায়নি এখনও। 

স্বপ্না বলেন, “আমরা নতুন বাড়িতে থাকি। পুরনো বাড়িতে ছোড়দা থাকত। ভোটের ফল বেরনোর পর থেকেই দাদাকে হুমকি দেওয়া হত। আমায় ধর্ষণেক হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। আমরা ভেবেছিলাম কেউ ইয়ার্কি করছেন। গিয়ে দেখি দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। আমার মনে হচ্ছে আমায় কেউ মেনে নিতে পারছেন না। দু’দিন আগে যেই মানুষগুলি আমার সঙ্গে ছিল, রাতারাতি তাঁরা পাল্টে গেল। কারা এই কাজ করল তা জানি না।”

শুক্রবার বিধানসভায় স্পিকার নির্বাচন প্রক্রিয়া ছিল। সেই অনুযায়ী অধিবেশন শুরু হয়। ভোট পরবর্তী হিংসা, ঘরছাড়াদের নিয়ে সরব হয় তৃণমূল। নিজের বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে ভোট পরবর্তী হিংসা ও ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর কথা তুলে ধরেন শোভনদেব। তিনি বলেন, “আপনারা বলছেন ভয় আউট ভরসা ইন। এদিকে আমাদের অসংখ্য মানুষ রাস্তায় ঘর ছাড়া। আজ ভয় আছে, ভরসা নেই। মুখ্যমন্ত্রীকে বলব, ভয় নেই যখন বলেছেন সেটা ব্যবস্থা করুন।”

জবাবে শুভেন্দু বলেন, “কেউ ঘরছাড়া আছে বলে আমার জানা নেই। আপনি ডিজিপির কাছে তালিকা দিন। কিন্তু পরিষ্কার শর্ত, ২০২১ সালে ভোট পরবর্তী হিংসায় এফআইআরে নাম থাকলে চলবে না। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই তাঁকে সসম্মানে বিজেপি বিধায়ক ও এসপি ঘরে ঢুকিয়ে দিয়ে আসবে। না হলে, অভিযোগ থাকলে জেলে যেতে হবে।”

এই বাগবিতণ্ডার দিনেই হিংসার ছবি উঠে এল সামনে।