আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোটি টাকা পেয়ে ঘুম উঠেছে মুর্শিদাবাদের লালগোলা থানার কালিকাপুর গ্রামের শিরিফা খাতুনের। দিন আনা- দিন খাওয়া পরিবারের এক সদস্যের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট প্রায় ৭৬০ কোটি টাকা ঢুকে যাওয়াই এই টাকা নিয়ে তিনি কী করবেন বুঝতে পারছেন না। টাকা ফিরিয়ে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে ইতিমধ্যেই শিরিফা খাতুন লালগোলা থানার পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন।
প্রসঙ্গত, গতকালও উত্তরবঙ্গের ফালাকাটা এবং ময়নাগুড়ি এলাকায় দুই মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকা অদ্ভুতভাবে জমা হওয়ার খবর এসেছে। তবে দু'টি ক্ষেত্রেই ওই মহিলাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট অন্নপূর্ণার ভান্ডার প্রকল্পের ভাতা পাওয়ার নথিভুক্ত করা রয়েছে। তবে মুর্শিদাবাদের যে মহিলার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার বেশি জমা হয়েছে তাঁর অ্যাকাউন্টটি অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার প্রকল্পের জন্য নথিভুক্ত নেই বলেই জানা গিয়েছে।
শিরিফা খাতুন বলেন,'আমি একটি স্বয়ম্বর গোষ্ঠীর সঙ্গে জড়িত রয়েছি। কয়েকদিন আগে আমার গোষ্ঠীর কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকেছে বলে আমি জানতে পারি। শনিবার বিকেল নাগাদ ওই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তুলতে গিয়ে আমি দেখতে পাই আমার অ্যাকাউন্টে প্রায় সাড়ে ৭০০ কোটি টাকার বেশি জমা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'আমরা দিন আনি দিন খাই পরিবারের লোক। আমার স্বামী দিনমজুরির কাজ করেন। কোনওক্রমে সংসার চালাই আমরা। কোনওরকম অনৈতিক কাজের সঙ্গে আমাদের পরিবারের কেউ যুক্ত নেই। তাও কীভাবে আমার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা ঢুকে গেল বুঝতে পারছি না।'
শিরিফা বলেন, 'ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য নেওয়ার পরই আমার হাত পা ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। স্বামীর পরামর্শ মত আমি লালগোলা থানার আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে গোটা বিষয়টি জানিয়েছি। পুলিশকে আমি অনুরোধ করেছি আমার টাকা ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য।'
শিরিফার শাশুড়ি আছিয়া বিবি বলেন," আমার সাত ছেলে, সবাই দিনমজুরের কাজ করে। আর্থিক অনটনের কারণে কোনও ছেলেই এখনও নিজের বাড়ি করতে পারেনি। আমার স্বামীরও কোনও জমি বাড়ি নেই। গতকাল হঠাৎই এক ছেলের স্ত্রীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কোটি কোটি টাকা এসে জমা হয়েছে। এই টাকা কে দিল, কোথা থেকে এল আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। টাকার অভাবে আমার নাতিদের ঠিকভাবে চিকিৎসাও হয় না। তবুও ওই টাকা আমরা ব্যাঙ্ক থেকে তোলার চেষ্টাও করিনি। আমার বউমা ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনাটি লালগোলা থানার আধিকারিকদেরকে জানিয়েছেন। "
লালগোলা থানার এক আধিকারিক বলেন ,কালিকাপুরের ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁরা অবগত। ইতিমধ্যেই গোটা বিষয়টি নিয়ে তাঁরা এক প্রস্থ খোঁজখবর করেছেন। ওই আধিকারিক জানান, প্রাথমিকভাবে আমরা ওই বেসরকারি ব্যাঙ্কের তরফ থেকে জানতে পেরেছি সফটওয়্যারের কোনও ত্রুটির জন্য কিছু গ্রাহকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অদ্ভুতভাবে অতিরিক্ত টাকা জমা হয়ে যাচ্ছে। সফটওয়্যারের এই ত্রুটি তারা ঠিক করার চেষ্টা করছেন।















