দীক্ষা ভুঁইয়া: আগেই রাজ্যের সমস্ত মাদ্রাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাস্তব পরিকাঠামো খতিয়ে দেখতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ করেছিল রাজ্য সরকারের। মাদ্রাসাগুলির তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল বিভিন্ন জেলাশাসকদের। এবার নির্দিষ্ট কয়েকটি জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের জন্য নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর। মোট ১০টি জেলার অনুদানহীন স্বীকৃত এবং অস্বীকৃত মাদ্রাসার তথ্য সংগ্রহ করতে সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকদের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্যের সংখ্যালঘু বিষয়ক এবং মাদ্রাসা শিক্ষা দপ্তর।
নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলিতে পরিদর্শনের কাজ শেষ করতে হবে। এরপর সমস্ত পর্যবেক্ষণ ও তথ্য সংকলন করে ২১ জুলাইয়ের মধ্যে রাজ্য সরকারের কাছে চূড়ান্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, স্বীকৃত ও অ-স্বীকৃত—উভয় ধরনের অনুদানবিহীন মাদ্রাসাই এই পরিদর্শনের আওতায় থাকবে। পরিদর্শনের সময় শিক্ষার মান, ছাত্রছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা, ভবনের অবস্থা, নিরাপত্তা, পরিকাঠামো, সরকারি প্রকল্পের বাস্তবায়ন-সহ একাধিক বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।
রাজ্যের মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, মালদা, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর-সহ একাধিক জেলায় মাদ্রাসা পরিদর্শনে যাবেন মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর, মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন এবং সংখ্যালঘু বিষয়ক দফতরের শীর্ষ আধিকারিকরা।
এই কর্মসূচি সফল করতে প্রতিটি জেলার জেলাশাসকদের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি, পরিদর্শনকারী আধিকারিকদের যাতায়াত ও অন্যান্য লজিস্টিক ব্যবস্থাও নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, এই পরিদর্শনের মাধ্যমে মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতির একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র সামনে আসবে। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত মাসের গোড়াতেই রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি মাদ্রাসাগুলির বর্তমান অবস্থা, পরিকাঠামো, ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা, শিক্ষার পরিবেশ এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের বাস্তব চিত্র জানতে জেলা পর্যায়ে বিশেষ পরিদর্শনের উদ্যোগ নিয়েছিল রাজ্য সরকার। এ জন্য বিভিন্ন জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের দায়িত্ব দিয়ে বিস্তারিত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল।















