আজকাল ওয়েবডেস্ক: নিশীথ প্রামাণিক পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটি পরিচিত নাম। ভারতীয় জনতা পার্টির অন্যতম তরুণ ও প্রভাবশালী নেতা হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিতি লাভ করেন। উত্তরবঙ্গ, বিশেষ করে কোচবিহার জেলার রাজবংশী সমাজের মধ্যে তাঁর জনপ্রিয়তা বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। মাত্র ৩৫ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সদস্য হওয়ার নজির গড়ে তিনি জাতীয় রাজনীতিতেও নিজের জায়গা পাকা করেছিলেন।
১৯৮৬ সালের ১৭ জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার দিনহাটায় নিশীথ প্রামাণিকের জন্ম। তাঁর পরিবারের শিকড় বাংলাদেশের গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামে। ১৯৬৮ সালে তাঁর পরিবার বাংলাদেশ ছেড়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে এবং দিনহাটায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করে। ছোটবেলা থেকেই সাধারণ জীবনযাপনের মধ্যে বেড়ে ওঠা নিশীথ পড়াশোনা শেষ করে শিক্ষকতার পেশায় যুক্ত হন। তিনি একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি প্রিয়াঙ্কা প্রামাণিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ এবং তাঁদের দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।
রাজনীতিতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমে। দীর্ঘদিন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে ২০১৮ সালের মার্চ মাসে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। বিজেপিতে যোগদানের পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি উত্তরবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। তাঁর সাংগঠনিক দক্ষতা এবং জনসংযোগ ক্ষমতা বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নজর কেড়েছিল।
২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নিশীথ প্রামাণিক জয়ী হন। তাঁর এই জয় উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। সাংসদ হওয়ার পর তিনি দ্রুত দিল্লির রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। ২০২১ সালে দ্বিতীয় মোদি মন্ত্রিসভায় তাঁকে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই সময় মাত্র ৩৫ বছর বয়সে তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
একই সঙ্গে তিনি পশ্চিমবঙ্গের দিনহাটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। যদিও পরে লোকসভার সদস্যপদ বজায় রাখতে তিনি বিধায়ক পদ ছেড়ে দেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে তিনি সীমান্ত এলাকা, যুব উন্নয়ন এবং ক্রীড়া পরিকাঠামো নিয়ে একাধিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন বিতর্কমুক্ত ছিল না। বিশেষ করে তাঁর জাতীয়তা নিয়ে বিরোধীদের তরফে প্রশ্ন তোলা হয়েছিল। অভিযোগ ওঠে যে তাঁর পরিবারের শিকড় বাংলাদেশে হওয়ায় তিনি “বাংলাদেশি”। যদিও বিজেপি এবং নিশীথ প্রামাণিক এই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেন এবং বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেই দাবি করা হয়।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কোচবিহার কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেও তিনি পরাজিত হন। তবুও উত্তরবঙ্গে বিজেপির সংগঠন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তাঁর অবদান আজও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। তরুণ নেতৃত্ব, সংগঠনের প্রতি দক্ষতা এবং জনসংযোগের কারণে নিশীথ প্রামাণিক এখনও পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির অন্যতম পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত হন। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও মাথাভাঙা থেকে বিপুল ভোটে তিনি জয়ী হন। এবারে তিনি প্রায় ৫৭ হাজারের বেশি ভোটে জেতেন। এরপরই রাজ্য মন্ত্রিসভায় তার স্থান প্রায় পাকা হয়ে যায়। শনিবার ব্রিগেডের ময়দান থেকে যে মন্ত্রীরা শপথ নেন সেখানেই তার নামে শীলমোহর পড়ে যায়।
















