গোপাল সাহা
পশ্চিমবঙ্গে নিপা ভাইরাসে এখনও পর্যন্ত পাঁচ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। ১২০ জনেরও বেশি মানুষকে কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়েছে। এর আগে পশ্চিমবঙ্গে শেষ নিপা সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ২০০৭ সালে।
বেলেঘাটা আইডি সূত্রে খবর, পাঁচজন সংক্রমিতের মধ্যে দু’জন নার্স, একজন চিকিৎসক এবং দু’জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। তবে প্রথম দু’জন নার্স রিপোর্ট নিয়ে সন্দিহান না থাকলেও হলেও বাকি তিন জনের রিপোর্ট এখনও সুনির্দিষ্ট করে জানায়নি স্বাস্থ্য দপ্তর। তবে হাসপাতাল সূত্রে খবর বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ৪০ জনের মতো নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে নজরদারিতে রয়েছেন। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতাল সূত্রে খবর, নিপা ভাইরাস দ্বারা আক্রান্তের সন্দেহে ভর্তি করানো এক নার্স, বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক এবং এক স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে দু’জনের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট নেগেটিভ এসছে। তবে এই রিপোর্টকে নিশ্চিত করার জন্য ফের নমুনা পরীক্ষা করবে আইসিএমআর।
প্রথম দুই রোগী বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের দুই নার্স। বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। অবস্থা বেশ সঙ্কটজনক। পরিবার-পরিজন ও হাসপাতালের কর্মী-সহ কন্ট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের মাধ্যমে ১২০ জনেরও বেশি মানুষকে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তরের অনুমান, আক্রান্তদের একজন নদিয়া জেলায় একটি বিয়েবাড়িতে গিয়ে কাঁচা খেজুরের রস পান করার মাধ্যমে সংক্রমিত হয়ে থাকতে পারেন।
কলকাতার বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে ইতিমধ্যেই বিশেষ আইসোলেশন ইউনিট খোলা হয়েছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও নজরদারির জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক একটি ন্যাশনাল জয়েন্ট আউটব্রেক রেসপন্স টিম মোতায়েন করেছে। উত্তর ২৪ পরগনা, পূর্ব বর্ধমান, পূর্ব মেদিনীপুর ও নদিয়া জেলায় জরুরি ভিত্তিতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, কেন্দ্র থেকে নজরদারির জন্য বৃহস্পতিবার ছয় থেকে সাত জনের বিশেষ টিম এসেছে কলকাতায়। আইসিএমআর সূত্রে খবর, ৩৩ জনের স্ক্রিনিং টেস্টের জন্য স্যাম্পেল পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য রাজ্য সরকার জরুরি হেল্পলাইন চালু করেছে— 033-2333-0180 এবং 9874708858।
নিপা ভাইরাস একটি জুনোটিক রোগ (প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত) এবং এর মৃত্যুহার অত্যন্ত বেশি (প্রায় ৫০–৭৫%)। বর্তমানে মানুষের জন্য কোনও কার্যকর টিকা নেই। ঝুঁকি কমাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র নির্দেশিকা অনুযায়ী নিম্নলিখিত সতর্কতা মেনে চলুন-
- কাঁচা খেজুরের রস এড়িয়ে চলুন: বাদুড় দ্বারা দূষিত হতে পারে এমন কাঁচা রস পান করবেন না।
- ফল ভালভাবে পরিষ্কার করুন: সব ফল ধুয়ে ও খোসা ছাড়িয়ে খান। কোনও ফলে পশুর কামড়ের চিহ্ন থাকলে তা ফেলে দিন।
- হাতের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন: অসুস্থ ব্যক্তির সংস্পর্শে গেলে বা পশু স্পর্শের পর সাবান ও জল দিয়ে নিয়মিত হাত ধুয়ে নিন।
- ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন: জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা এনসেফালাইটিসের উপসর্গ রয়েছে—এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ শারীরিক সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
