আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যসভায় বিজেপির প্রার্থী হলেন দলের প্রবীণ নেতা রাহুল সিনহা। তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতিরও ছিলেন। কয়েকদিন আগেই তৃণমূল কংগ্রেস তাদের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছিল। এবার প্রার্থীর নাম ঘোষণা করল বিজেপি।  


রাহুল সিনহা পশ্চিমবঙ্গের একজন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং ভারতীয় জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ শাখার বরিষ্ঠ নেতা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে দলের সাংগঠনিক বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। রাজ্যে বিজেপির প্রায় শুরুর সময় থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে দল গড়ে তোলার কাজে যুক্ত ছিলেন।


তিনি পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর নেতৃত্বকালে রাজ্যে বিজেপির সাংগঠনিক ভিত্তি অনেকটা মজবুত হয় এবং বিভিন্ন আন্দোলনে দল সক্রিয় ভূমিকা নেয়। স্পষ্টভাষী ও সরব রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত। সর্বভারতীয় সম্পাদক হিসেবেও তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বলিষ্ঠ বিরোধী কণ্ঠস্বর হিসেবে তাঁর উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য। তাই তাকেই এবার প্রার্থী হিসেবে বেছে নিল গেরুয়া শিবির। 


১৬ মার্চ রাজ্যসভায় পশ্চিমবঙ্গের ৫ আসনে ভোট। সেখানে তৃণমূলের রাজ্যসভায় প্রার্থী প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমার, আইনজীবী মেনকা গুরুস্বামী,অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক এবং মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়। অঙ্কের হিসেবে তৃণমূলের ৪ প্রার্থীর জয় নিশ্চিত। পশ্চিমবঙ্গ-সহ মোট ৩৭টি রাজ্যসভার আসনে ভোট হবে। 

 

এবিষয়ে রাহুল সিনহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এমন একটা দিনে এই দায়িত্ব এসেছে তাতে তিনি খুশি। অশুভের পতন এবং শুভর সূচনা হল। বিজেপি তার সকল সদস্যদের দিকেই নজর রাখছে। সঠিক সময়ে তাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হবে। দলের সকল কর্মীদেরই দায়িত্ব দেওয়া হবে। আমি কখনই হতাশ হই না। নিজের কাজ মন দিয়ে করে যাই। বাকিটা দল যা দায়িত্ব দেবে সেটাই করব। 


প্রসঙ্গত, শুক্রবারই তৃণমূল কংগ্রেস সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে জানিয়ে দেয়, রাজ্যসভার নির্বাচনে কে কে প্রার্থী হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে। দিন কয়েক আগেই সংসদের উচ্চকক্ষের সাংসদ নির্বাচনের নির্ঘন্ট জানা যায়। তাতে জানানো হয়, ২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভার ৩৭টি আসনে নির্বাচনের জন্য ভোটের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ৫ মার্চ। মনোনয়নপত্র যাচাই করা হবে ৬ মার্চ। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ৯ মার্চ। তবে একটি আসনের জন্য যদি এক জনই মনোনয়ন জমা দেন সেক্ষেত্রে নির্বাচনের দরকার হবে না।


পশ্চিমবঙ্গের পাঁচ জন রাজ্যসভার সাংসদের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল। প্রায় ওই সময়েই খালি হতে চলেছে ১০টি রাজ্যের মোট ৩৭টি আসন। পশ্চিমবঙ্গের পাঁচটি আসন ছাড়াও মহারাষ্ট্রের সাতটি, ওড়িশার চারটি, তামিলনাড়ুর ছ’টি, অসমের তিনটি, বিহারের পাঁচটি, ছত্তিশগড়ের দু’টি, হরিয়ানার দু’টি, হিমাচল প্রদেশের একটি এবং তেলঙ্গানার দু’টি রাজ্যসভা আসনে নির্বাচন হবে আগামী ১৬ মার্চ।

 


আগেই রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়া মৌসম বেনজির নূর। মৌসম ছাড়া তৃণমূলের তিন রাজ্যসভার সাংসদ সাকেত গোখলে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সুব্রত বক্সীর মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২ এপ্রিল। একই দিনে ছ’বছরের মেয়াদ শেষ করবেন সিপিএমের বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। এই পাঁচ আসনেই নির্বাচন হবে আগামী ১৬ মার্চ।