আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অতনু দাসের 'দেহরক্ষী'কে গ্রেপ্তার করলেন খোদ থানার বড়বাবু। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার বিকালে। 

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে , ধৃত ওই ব্যক্তির নাম কামালউদ্দিন মির্জা (২৫)। তার বাড়ি বীরভূম জেলার লাভপুর থানার অন্তর্গত হাতিয়া গ্রামে। শক্তিপুর থানার এক আধিকারিক জানান, প্রায় দেড় মাস আগে কামালউদ্দিন মির্জা বীরভূম থেকে মুর্শিদাবাদের শক্তিপুর থানা লাহারপাড়া গ্রামে আসেন। ওই যুবক এলাকায় পুলিশ কনস্টেবলের পোশাক পড়ে ঘুরে বেড়াতেন। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কামালউদ্দিন নিজেকে শক্তিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের 'দেহরক্ষী' হিসেবে সকলের কাছে পরিচয় দিতেন। সেই পরিচয় ব্যবহার করে সে লাহারপাড়া গ্রামে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকতেও শুরু করেছিলেন। 

এই সময়ের মধ্যেই লাহারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা জনৈক অজগর শেখের মেয়ের সঙ্গে কামালউদ্দিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। থানার বড়বাবুর 'দেহরক্ষী'কে পাত্র হিসেবে পেয়ে অজগর শেখ যথেষ্ট খুশি হয়েছিলেন। এলাকায় বুক ফুলিয়ে বলে বেড়াচ্ছিলেন তাঁর হবু জামাই থানার বড়বাবুর 'দেহরক্ষী'। 

গত ৩০ জুন লাহারপাড়া গ্রামে ধূমধাম করে কামালউদ্দিন মির্জার সঙ্গে অজগর শেখের মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিয়ের পরই কামালউদ্দিনের আচার-আচরণ নিয়ে সন্দেহ জাগতে শুরু করে অজগর শেখ এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের মনে। এরপরই তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজখবর করে জানতে পারেন কামালউদ্দিন মির্জা পুলিশ কনস্টেবলের একটি ভুয়ো পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। 

সম্প্রতি স্থানীয় এক ব্যক্তি কামালউদ্দিনের সরকারি পরিচয় পত্রটি দেখার পরে তাঁর মনে সন্দেহ জাগে। পুলিশের ওই আধিকারিক বলেন, পরিচয়পত্রে কামালউদ্দিনের নামের প্রথম অক্ষরটি ইংরেজিতে বড় হাতের লেখা হলেও পদবীটি ছোট হাতের লেখা রয়েছে। এর পাশাপাশি তার পরিচয়পত্রটিতে 'স্বাক্ষর' রয়েছে কোনও এক কমান্ড্যান্টের। সব কিছু দেখে ওই ব্যক্তির সন্দেহ হওয়ায় তিনি বিষয়টি অজগর শেখ এবং তাঁর পরিবারের বাকি সদস্যদের নজরে আনেন। 

শক্তিপুর থানার ওই আধিকারিক জানান, শুক্রবার বিকালে অজগর শেখের স্ত্রী নিজের জামাই কামালউদ্দিন মির্জার বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। ওই মহিলার অভিযোগ, কামালউদ্দিন মির্জা নিজের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে পুলিশের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে তাঁর মেয়েকে বিয়ে করেছেন। ওই যুবক কোনও কাজই করেন না। 

পুলিশ সূত্রের খবর, ধৃত ওই যুবকের কাছ থেকে পুলিশের ভুয়ো একটি পরিচয় পত্র এবং পুলিশের পোশাক উদ্ধার হয়েছে। কীভাবে সে এগুলো জোগাড় করেছিল পুলিশ তা খতিয়ে দেখছে। এর পাশাপাশি অন্য কোনও জায়গায় নিজের ভুয়ো পরিচয় ব্যবহার করে কামালউদ্দিন আর কোনও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত কিনা পুলিশ তাও খতিয়ে দেখছে। ধৃত ওই যুবককে শনিবার বহরমপুর আদালতে পেশ করা হবে।