আজকাল ওয়েবডেস্ক: পুরুলিয়া থেকে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের (এসটিএফ) হাতে গ্রেপ্তার হলেন প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর দেবরাজ চক্রবর্তী। সম্প্রতি কলকাতা হাইকোর্ট তাঁর স্ত্রী তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অদিতি মুন্সিকে চার মাসের শিশুসন্তানের কথা বিবেচনা করে আগাম জামিন দিলেও, দেবরাজের সেই আবেদন খারিজ করে দেয় আদালত। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল যে আইনি রক্ষাকবচ মিলবে না, আর তার পরেই বুধবার পুরুলিয়া থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

দেবরাজের এই গ্রেপ্তারি প্রসঙ্গে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক তরুণজ্যোতি তিওয়ারি। তিনি এই ঘটনাকে সময়ের অপেক্ষা বলে উল্লেখ করে বলেন, "এটা হওয়ারই ছিল। দু' পয়সার চোর বললে ভুল হবে, ডাকাত ও কাটমানি খোর গ্রেপ্তার হয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন, মানুষের টাকা লুঠ করে দেবরাজ প্রায় ১৩০০ কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়েছেন। দেবরাজ ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে জমি হাতানো, নির্বাচনের আগে বিপুল সম্পত্তি বিক্রি এবং নির্বাচনী হলফনামায় সম্পত্তি গোপন করার মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

এই গ্রেপ্তারি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দেবরাজের গ্রেপ্তারি নিয়ে মুখ খুলেছেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি এই ঘটনাকে দুর্ভাগ্যজনক ও লজ্জাজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস রাজনৈতিক দল ও সরকারকে আসলে 'মানি মেকিং ইনস্টিটিউশন' বা টাকা রোজগারের ব্যবসায়িক সংস্থায় পরিণত করেছে। তাঁর মতে, রাজনীতিকে ঢাল করে এরা দেদার টাকা কামিয়েছে। মন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, এই সমস্ত দুর্নীতিগ্রস্ত ও অসৎ মানুষদের গত সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রশাসন এতদিন ধরে আড়াল করে পাহারা দিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত আদালতের নির্দেশে যে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, সেই ইঙ্গিতও উঠে এসেছে এই ঘটনায়।

প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক কৌস্তুভ বাগচিও, "উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ভাইপোর লাইট ভার্সান ছিল এই দেবরাজ। রাজ্যে শাসকের আইন চলত এতদিন। ভাইপোর হাত এর মাথায় ছিল তাই পার পেয়ে যাচ্ছিল। এখন আইনের শাসন চলছে। স্বাভাবিক কারণে দেবরাজ গ্রেপ্তার হয়েছে। এই ছেলে বিভিন্ন তৃণমূল কর্মীদের ভয় দেখিও টাকা তুলত। কাউন্সিলার থেকে এত টাকা সম্পত্তির মালিক। ভাইপো এদেরই পছন্দ করত। কথায় বলে রতনে রতন চেনে। বাকিটা আর বললাম না।"