দীক্ষা ভুঁইয়া

২০১১ সাল থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, সংস্থা ও প্রকল্পে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচারবিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দপ্তরের কমিশনস অফ ইনকোয়ারি সেলের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি বিস্বজিৎ বসু-র নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে ‘Commission on Institutional Corruption in West Bengal’। কমিশন গঠনের নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছিলেন যে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমিটি তৈরি করা হবে। সেই কমিটি গঠনের বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২০১১ থেকে মে ২০২৬ পর্যন্ত শিক্ষা, খাদ্য ও সরবরাহ, দুর্যোগ ত্রাণ, পুরসভা ও পঞ্চায়েত, আবাসন, মৎস্য, শিল্প, পূর্ত, ভূমি এবং জিটিএ-সহ একাধিক ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করবে এই কমিশন।

কমিশনের তদন্তের আওতায় থাকবে আমফান ত্রাণ, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (PMAY), ১০০ দিনের কাজ (MGNREGA), মিড-ডে মিল-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ। পাশাপাশি সরকারি অর্থের অপব্যবহার, ক্ষমতার অপপ্রয়োগ, বেআইনি নির্মাণে প্রশাসনিক মদত, সরকারি চাকরিতে দুর্নীতি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য পরিষেবায় অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখা হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কমিশনে একজন সিনিয়র আইপিএস আধিকারিক তদন্ত শাখার প্রধান হিসেবে, একজন আইএএস বা ডব্লিউবিসিএস আধিকারিক সদস্য-সচিব হিসেবে এবং একজন ডব্লিউবিআরএস আধিকারিক প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকবেন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকারের অনুমোদন নিয়ে বাইরের বিশেষজ্ঞদেরও যুক্ত করা যাবে।

তদন্ত চলাকালীন কমিশন অভিযোগ গ্রহণ, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ, সরকারি নথি তলব এবং সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে। তদন্তে ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষকে এফআইআর দায়েরের সুপারিশও করতে পারবে কমিশন। তবে যে সমস্ত বিষয় ইতিমধ্যেই অন্য কোনও বৈধ তদন্ত কমিশন বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তদন্তাধীন, সেগুলি এই কমিশনের আওতায় থাকবে না।

সরকারি নির্দেশিকায় আরও জানানো হয়েছে, তদন্তের অগ্রগতি অনুযায়ী কমিশন পর্যায়ক্রমে রাজ্য সরকারের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে এবং ভবিষ্যতে প্রয়োজন হলে কমিশনের কার্যপরিধি আরও সম্প্রসারণের ক্ষমতাও সরকারের হাতে থাকবে।