আজকাল ওয়েবডেস্ক: আরজিকর মামলা থেকে সরে দাঁড়াল বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ। জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী এবার মামলা চলে গেল হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির হাতে।
রাজ্যে সরকারের পালাবদল হতেই অভয় কাণ্ডে নয়া মোড় দেখা গেল। তাঁর ডিভিশন বেঞ্চ থেকে এই মামলা সরে যাওয়ার পর বিচারপতি মান্থা জানিয়েছেন, আরজিকর মামলার জন্য রাজ্য সরকার সম্ভবত একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করেছে। সে কারণে আপাতত এই মামলা শোনার কোনও প্রয়োজন নেই।
বিচারপতি মান্থার বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, রাজ্যের তরফে জুডিশিয়াল কমিশন তৈরি হতে পারে। যে ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলায় পর্যাপ্ত সময় দিতে পারবে সেখানেই শুনানি হওয়া উচিত।
মঙ্গলবার এই মামলায় সিবিআই স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয় আদালতে। এই মামলায় এর আগের শুনানিতে বিচারপতি মান্থার ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, সিবিআই চাইলে নতুন এই মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করতে পারবে। সেটা সন্দেহভাজন এবং সাজাপ্রাপ্তদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করা যেতে পারে।
এই শুনানির পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার আদালতে স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। এরপরই আদালতের পর্যবেক্ষণ রাজ্য যখন জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করছে, তখন যে ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির পূর্ণাঙ্গ বিচারের শুনানির জন্য সময় দিতে পারবে তাদেরই গ্রহণ করা উচিত।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর বাংলায় এসে আরজিকর কাণ্ডে কমিশন গঠনের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের বৈঠকের পরেই সাংবাদিক সম্মেলনে এই ঘোষণা করেছিলেন তিনি।
বিধায়কদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণা করেন অমিত শাহ। এদিন শুরুতেই নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিধানসভা নির্বাচনে সমস্ত জয়ী প্রার্থীদের ধন্যবাদ জানান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এদিন বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক করলেও মঞ্চ থেকে তৃণমূল এবং বামেদের একহাত নেন অমিত শাহ। এদিন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'পাঁচ দশক ধরে বাংলার গণতন্ত্র নষ্ট হয়েছে, অর্থনৈতিক ভাবে পিছিয়ে গিয়েছে। বাংলার উন্নয়ন ক্রমশ পিছিয়ে গিয়েছে।'
শাহের দাবি, এবার ক্ষমতায় এসে বাংলার মানুষের বিশ্বাস পূরণ করতে বদ্ধপরিকর বিজেপি। ২০১৪ সালে বিধানসভা উপনির্বাচনে জিতে শমীক ভট্টাচার্য বাংলায় প্রথমবার বিজেপির বিধায়ক হন।
সেখান থেকে ২০১৬ সালে ৩টি, ২০২১ সালে ৭৭টি আসন জেতে বিজেপি। তারপর ২০২৬ সালে ২০৭টি আসন পেয়ে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। সেই প্রসঙ্গও এদিন উঠে আসে শাহের গলায়।
শাহ বলেন, '৯টি জেলায় তৃণমূল খাতাও খুলতে পারেনি। ভবানীপুরেও মমতা ব্যানার্জির ঘরে ঢুকে তাঁকে হারিয়েছেন শুভেন্দু। আমি এরকম জনাদেশ কোথাও দেখিনি। যেখানে বিরোধীদের কথা পর্যন্ত বলতে দেওয়া হয় না, সেখানে বিজেপি প্রতিপক্ষকে খাতা পর্যন্ত খুলতে দেয়নি।'
এদিন আরজিকর, সন্দেশখালির ঘটনা নিয়ে মুখ খোলেন শাহ। জানান, 'আরজিকর এবং সন্দেশখালির ঘটনায় কমিশন তৈরি হবে। শুধু বাংলা নয়, সারা দেশে অনুপ্রবেশকারীদের খুঁজে বের করব আমরা।'















