আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঝাড়গ্রাম সফরের সময় রাস্তার ধারের এক সাধারণ ঝালমুড়ির দোকানে দাঁড়িয়ে ঝালমুড়ি খাওয়ার দৃশ্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেই ঘটনাই রাতারাতি বদলে দিয়েছিল ঝাড়গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা বিক্রম সাউয়ের জীবন। সাধারণ এক দোকানদার থেকে তিনি হয়ে ওঠেন রাজ্যজুড়ে পরিচিত মুখ। কিন্তু সেই পরিচিতিই এবার তাঁর জীবনে ডেকে এনেছে চরম আতঙ্ক।
বিক্রম সাউয়ের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে একের পর এক ভিডিও কল ও হুমকি বার্তা আসছে তাঁর মোবাইলে। তিনি জানান, অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল রিসিভ করলেই ওপার থেকে কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্রশস্ত্র দেখিয়ে তাঁকে ভয় দেখাচ্ছে। এমনকি তাঁর ঝালমুড়ির দোকান বোমা মেরে উড়িয়ে দেওয়ারও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। বিক্রমের কথায়, “প্রধানমন্ত্রী মোদি আমার দোকানে ঝালমুড়ি খাওয়ার পর থেকেই সবাই আমাকে চিনতে শুরু করে। প্রথমদিকে খুব ভালো লাগছিল। কিন্তু এখন প্রতিদিন অচেনা নম্বর থেকে ভিডিও কল আসছে। ফোন ধরলেই অস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দিচ্ছে। দোকান উড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলছে। খুব ভয় লাগছে।”
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা কিছু বার্তায় তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি এখনও জীবিত আছেন কি না। প্রতিদিন এই ধরনের হুমকি আসায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন তিনি। দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার সময়ও আতঙ্কে থাকছেন বলে জানান বিক্রম।
ঘটনার কথা ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে জানিয়েছেন তিনি। বিক্রম বলেন, “আইসি স্যারকে সব জানিয়েছি। উনি বলেছেন বিষয়টা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কিন্তু প্রতিদিন দোকান সেরে সাইকেলে বাড়ি ফিরতে ভয় লাগছে। কখন কী হয়ে যায় বুঝতে পারছি না।”
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঝাড়গ্রাম জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে বিনপুরের বিজেপি বিধায়ক প্রণত টুডু বলেন, “একজন সাধারণ ঝালমুড়ি বিক্রেতাকে হুমকি দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক।বাইরের কোনও দেশের লোক আমাদের দেশের ব্যবসায়ীদের হুমকি দেবে, এটা আমরা মেনে নেব না। সে পাকিস্তান হোক বা বাংলাদেশ।”















