ইন্দ্রজিৎ সাহু: ঝাড়গ্রাম জেলা জুড়ে সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে ছড়িয়ে পড়া গুজবকে কেন্দ্র করে তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। লোকমুখে রটে গিয়েছে, গভীর রাতে বাড়ির দরজায় টোকা দিয়ে ভিতরে ঢুকে দুষ্কৃতীরা ভোটার ও আধার কার্ড পুড়িয়ে দিচ্ছে, লুঠ করছে নগদ টাকা ও সোনা-গয়না। 

 

এই ভয়াবহ গল্প ছড়িয়ে পড়তেই বহু গ্রামে শুরু হয়েছে রাতভর স্বেচ্ছায় পাহারা। বাঁশ ও লাঠি হাতে দল বেঁধে পাহারার দৃশ্য যেন বহু মানুষের মনে অতীতের অশান্ত দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকপাড়া, সাঁকরাইল, গোপীবল্লভপুর-সহ জেলার একাধিক এলাকায় দুষ্কৃতীদের বাড়িতে ঢুকে অস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানো, দরজা ভাঙচুর ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নষ্ট করার মতো ঘটনার কথা শোনা যাচ্ছে। যদিও এখনও পর্যন্ত এই সব অভিযোগের নির্দিষ্ট কোনও লিখিত নথি পুলিশের হাতে পৌঁছয়নি। 

 

অনেকেই মনে করছেন, কয়েকটি বিচ্ছিন্ন দরজা ভাঙার ঘটনাই গুজবের সঙ্গে মিশে আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, কিছু অসাধু ব্যক্তি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই গুজব ছড়াচ্ছে। তবে কী উদ্দেশ্যে এই আতঙ্ক ছড়ানো হচ্ছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এর মধ্যেই জেলা পুলিশের তরফে বারবার গুজবে কান না দেওয়ার আবেদন জানানো হচ্ছে। পুলিশের বক্তব্য, এখন পর্যন্ত ডাকাতি বা সংগঠিত অপরাধের কোনও নিশ্চিত তথ্য তাদের নজরে আসেনি।

 

এই আতঙ্কের আবহে চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। নিরাপত্তাহীনতার পরিবেশ পরীক্ষার্থীদের মানসিক স্থিরতায় প্রভাব ফেলতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অভিভাবকেরা। অনেক পড়ুয়ার পক্ষেই পড়াশোনায় মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে বলে অভিযোগ। 

 

প্রশাসনের কাছে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিও জোরাল হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিশের তরফে টহল জোরদার করা হয়েছে। এসডিপিও শামিম বিশ্বাস এবং আইসি কৌশিক কুমার সাউ-এর নেতৃত্বে সন্ধ্যার পর পুলিশ বাহিনী গ্রামে গ্রামে ঘুরে মানুষকে গুজবে কান না দেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে রাতের নজরদারি ও টহল।

 

জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কেউ যদি সন্দেহজনক কিছু দেখতে পান বা ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টা লক্ষ করেন, তাহলে দ্রুত থানায় খবর দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। অযথা আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। গ্রামবাসীরা আশা করছেন, পুলিশের এই সক্রিয় পদক্ষেপে দ্রুত আতঙ্ক কাটবে এবং প্রকৃত পরিস্থিতি পরিষ্কার হবে। এই উদ্যোগ কতটা মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারে, তা অবশ্য সময়ই বলবে।