এল নিনো ও লা নিনা—এই দুটি প্রাকৃতিক জলবায়ু ঘটনা বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার উপর গভীর প্রভাব ফেলে। কখনও খরা, কখনও অতিবৃষ্টি, কখনও তীব্র তাপপ্রবাহ বা শীতলতা।
2
12
এই পরিবর্তনের নেপথ্যে প্রায়ই প্রশান্ত মহাসাগরের এই দুই বিপরীতধর্মী অবস্থা কাজ করে। এতদিন বিজ্ঞানীরা মূলত সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা, বায়ুচাপ এবং বায়ুপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এল নিনো ও লা নিনার পূর্বাভাস দিতেন।
3
12
তবে সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই পদ্ধতিগুলির বাইরে আরও উন্নত ও নির্ভুলভাবে এই ঘটনাগুলিকে পর্যবেক্ষণ করার নতুন উপায়।
4
12
নতুন এই পদ্ধতির মূল ভিত্তি হল একাধিক তথ্যসূত্রকে একত্রে বিশ্লেষণ করা। আগে যেখানে আলাদা আলাদা ডেটা ব্যবহার করা হতো, এখন সেখানে স্যাটেলাইট পর্যবেক্ষণ, গভীর সমুদ্রের সেন্সর, বয়া থেকে পাওয়া তথ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-ভিত্তিক মডেল একসঙ্গে কাজে লাগানো হচ্ছে।
5
12
এর ফলে সমুদ্রের শুধু উপরিভাগ নয়, নিচের স্তরেও কী পরিবর্তন হচ্ছে, তা অনেক বেশি স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হচ্ছে।
6
12
বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো ও লা নিনার সূচনা অনেক সময় সমুদ্রের গভীরে তাপমাত্রা ও স্রোতের সূক্ষ্ম পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয়। এই পরিবর্তনগুলি আগে ধরা পড়ত না বা দেরিতে ধরা পড়ত। নতুন প্রযুক্তির সাহায্যে এখন সমুদ্রের গভীর স্তরের তাপমাত্রা, লবণাক্ততা এবং স্রোতের গতিপথ আগেভাগেই বিশ্লেষণ করা যাচ্ছে। এর ফলে কয়েক মাস আগে থেকেই সম্ভাব্য এল নিনো বা লা নিনার ইঙ্গিত পাওয়া সম্ভব হচ্ছে।
7
12
এই উন্নত নজরদারির আরেকটি বড় দিক হল মেশিন লার্নিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার। বিপুল পরিমাণ অতীতের আবহাওয়া ও সমুদ্রসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই মডেলগুলি এখন প্যাটার্ন বা ধারা শনাক্ত করতে পারছে, যা মানুষের পক্ষে সহজে ধরা সম্ভব নয়। এর ফলে পূর্বাভাস শুধু আগেভাগেই নয়, অনেক বেশি নির্ভুলও হচ্ছে বলে দাবি করছেন গবেষকরা।
8
12
এই নতুন পদ্ধতির প্রভাব বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এল নিনো বা লা নিনা সক্রিয় হলে কৃষি, মৎস্য, জলসম্পদ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ে।
9
12
উন্নত পূর্বাভাস পাওয়া গেলে কৃষকেরা আগেভাগেই ফসলের পরিকল্পনা বদলাতে পারবেন, সরকার খরা বা বন্যার প্রস্তুতি নিতে পারবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও জল সংরক্ষণ ব্যবস্থাও আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যাবে।
10
12
ভারত, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার মতো অঞ্চলের জন্য এই উন্নত পর্যবেক্ষণ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই দেশগুলির অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তা অনেকাংশেই মৌসুমি বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল।
11
12
এল নিনো সক্রিয় হলে ভারতে দুর্বল বর্ষার আশঙ্কা থাকে, আবার লা নিনা হলে অতিবৃষ্টির ঝুঁকি বাড়ে। আগাম ও নির্ভুল তথ্য পাওয়া গেলে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
12
12
সব মিলিয়ে বলা যায়, এল নিনো ও লা নিনাকে নজরে রাখার এই নতুন ও উন্নত পদ্ধতি জলবায়ু বিজ্ঞানে এক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। প্রযুক্তি ও তথ্য বিশ্লেষণের এই সমন্বয় ভবিষ্যতে শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাস নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।