মিল্টন সেন: রান্নার গ্যাসের অনিশ্চয়তা বাড়তেই বিকল্পের খোঁজে সাধারণ মানুষ। গ্যাস না-ও পাওয়া যেতে পারে, এই আশঙ্কায় হুগলির বিভিন্ন এলাকায় ইলেকট্রিক ইনডাকশন ওভেন কেনার হিড়িক বেড়েছে। বিশেষ করে ব্যান্ডেলের একাধিক দোকানে গত কয়েক দিনে বহু গুণ বেড়েছে ইনডাকশন ওভেনের বিক্রি।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির সরবরাহে প্রভাব পড়েছে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আমেরিকা ও ইজরায়েলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়েছে ইরান, পাল্টা ইরানও আক্রমণ চালিয়েছে সংলগ্ন একাধিক দেশে।

বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে হরমুজ প্রণালী। তার জেরেই দেশে এলপিজি সরবরাহে টান পড়েছে বলে অভিযোগ। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরা।

কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার মিলছে না বলেই অভিযোগ। একই সঙ্গে গৃহস্থালির ডোমেস্টিক সিলিন্ডারের সরবরাহও অনিয়মিত হয়ে পড়েছে।

অনেক জায়গায় ২৫ দিনের আগে নতুন বুকিং নেওয়া হচ্ছে না। এমনকি বুকিং করার পরও সময়মতো গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠছে।

গ্যাসের সঙ্কটের সুযোগে কোথাও কোথাও বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। উত্তরপাড়ার একটি গ্যাস এজেন্সির সামনে এদিন গ্রাহকদের ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা যায়।

এই পরিস্থিতিতে অনেকেই বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক ইনডাকশন ওভেন কিনে বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছেন। তাদের বক্তব্য, গ্যাসের অনিশ্চয়তার মধ্যে এখন ইলেকট্রিক ওভেনই একমাত্র ভরসা। রান্না করে খেতে তো হবেই।

ব্যান্ডেলের এক ব্যবসায়ী পলাশ দাস জানান, সাধারণত তাঁর দোকানে দিনে তিন থেকে চারটি ইলেকট্রিক ওভেন বিক্রি হত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে গত দুই দিনে প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি ওভেন বিক্রি হয়েছে। দোকানে যে স্টক ছিল তা প্রায় শেষ হয়ে যাওয়ায় নতুন করে আবার ওভেন আনাতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তার কথায়, ‘যে খবর পাওয়া যাচ্ছে তাতে এখনই গ্যাসের সমস্যা মিটবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই অনেকেই বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক ওভেন কিনছেন। এতে খরচও কিছুটা কম হয়।’

ছবি: পার্থ রাহা