মিল্টন সেন: শ্রীরামপুর থানায় হাজিরা দিয়ে ফেরার পথে 'নাটকীয়' পরিস্থিতি। শেষমেশ থানায় হাজিরা দিলেন আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। ম্যারাথন জেরা শেষে থানা থেকে বেরোনোর পরেই আচমকা ‘অসুস্থ’ হয়ে পড়েন তিনি। কিন্তু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই হঠাৎ ভোলবদল! গাড়ি থেকে নেমে সটান দৌড়ে নিজের বাড়িতে ঢুকে গেলেন প্রাক্তন সাংসদ। যা দেখে তাজ্জব বনে গিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশ সূত্রে খবর, পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের তরফে অপরূপার বিরুদ্ধে একটি জামিন অযোগ্য মামলা রুজু করা হয়। গত মঙ্গলবার এনআইএ যখন তাঁর স্বামী তথা রিষড়ার তৃণমূল কাউন্সিলর সাকির আলিকে গ্রেপ্তার করতে যায়, তখন পুলিশের সঙ্গে তীব্র বিতণ্ডায় জড়ান অপরূপা। এর জেরেই শ্রীরামপুর থানা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করে।
সেই মামলাতেই গত বুধবার অপরূপাকে ডেকে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু স্বামীর গ্রেপ্তারির কারণ দর্শিয়ে ইমেল মারফত হাজিরা এড়িয়ে যান তিনি। এরপর বৃহস্পতিবার চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার সুনীল কুমার যাদব জানান, মামলায় আরও কিছু জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করে প্রাক্তন সাংসদকে শুক্রবার পুনরায় হাজিরার নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
সেই মতো শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে শ্রীরামপুর থানায় পৌঁছন কালো কোট পরিহিত অপরূপা। 'অপ্রীতিকর' পরিস্থিতি এড়াতে থানার সামনে আগে থেকেই মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী। সিআরপিএফ জওয়ানদের ঘেরাটোপেই তিনি থানার ভিতরে ঢোকেন। এরপর পুলিশ আধিকারিকদের উপস্থিতিতে চলে দফায় দফায় জেরা।
বিকেল সোয়া চারটে নাগাদ, টানা প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টার ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ শেষে থানা থেকে বেরোন প্রাক্তন সাংসদ। কিন্তু গেট পেরোতেই নাটকীয় মোড় নেয় গোটা ঘটনা। হঠাৎই সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে একটি টোটোয় বসিয়ে শ্রীরামপুর ওয়ালস হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া হয়।
কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাসপাতালের মূল ফটকের সামনে পৌঁছেও থামেনি টোটোটি। তা বটতলা হয়ে কাঁটা পোলের রাস্তা ধরে সোজা পৌঁছয় অপরূপার বাড়ির সামনে। আর তখনই দেখা যায় আসল চমক। এতক্ষণ ‘অচৈতন্য’ হয়ে থাকা প্রাক্তন সাংসদ টোটো থেকে নেমেই কার্যত দৌড়ে নিজের বাড়ির ভিতরে ঢুকে যান।
তদন্তের মুখোমুখি হয়ে চনমনে সাংসদের এমন আচমকা ‘অসুস্থতা’ এবং পরক্ষণেই সুস্থ হয়ে দৌড়ে বাড়ি ফেরার এই ‘নাটক’ ঘিরে ইতিমধ্যেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়।
ছবি: পার্থ রাহা।















