আজকাল ওয়েবডেস্ক: আমের জন্য বিশ্বজোড়া খ্যাতি রয়েছে মালদহের। এবার সেই জেলার মুকুটে জুড়ল আরও এক নতুন পালক। চাঁচল-১ ব্লকের খরবা গ্রাম পঞ্চায়েতের আশাপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী আশাপুর বেগুন পেয়েছে জিওগ্রাফিক্যাল ইন্ডিকেশন (জিআই) স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতির ফলে আইনি সুরক্ষাও পেল জেলার এই ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য। খুশির হাওয়া কৃষক মহল থেকে জেলা প্রশাসনের কর্তারা। 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জিআই নম্বর ৯৯২, ক্লাস-৩১ (বেগুন) বিভাগে আশাপুর বেগুনের নথিভুক্তকরণ সম্পন্ন হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মার্চ, চেন্নাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জিআই শংসাপত্র জারি করা হয়।

এই স্বীকৃতির নেপথ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা। আশাপুর বেগুনের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য, ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতি এবং আশাপুর এলাকার ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে এর নিবিড় সম্পর্কের প্রমাণ তুলে ধরতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তথ্য ও নথি সংগ্রহ, মাঠপর্যায়ে যাচাই এবং কৃষক, কৃষি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বিস্তৃত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। সেই প্রচেষ্টার ফলেই মিলেছে এই কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি।

জেলাশাসক রাজনবীর সিং কাপুর বলেন, "আশাপুর বেগুনের জিআই স্বীকৃতি মালদহ জেলার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। এর ফলে চাঁচল-১ ব্লক ও সংলগ্ন এলাকার কৃষকরা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবেন।"

অতিরিক্ত জেলাশাসক শ্রীনিবাস পাটিল জানান, "স্থানীয় কৃষিপণ্যের উন্নয়ন এবং কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় জেলা প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগের এটি একটি বড় সাফল্য।"

মালদহ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের প্রধান দূষ্যান্ত কুমার রাঘব বলেন, "আকার, স্বাদ, গুণমান এবং ঐতিহ্যবাহী চাষপদ্ধতির জন্যই আশাপুর বেগুন এই স্বীকৃতি পেয়েছে। জিআই স্বীকৃতির ফলে দেশ-বিদেশে এর পরিচিতি আরও বাড়বে। কৃষকরা উৎপাদিত বেগুনের ন্যায্য মূল্য পাওয়ার পাশাপাশি সাধারণ বেগুনের তুলনায় বেশি দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হবে।"

মোল্লার চাঁচোল এর আশাপুরের বেগুন চাষিরা একটি সংগঠন তৈরি করে বহুদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য আবেদন করেছিলেন। অবশেষে সেই পরিশ্রমের স্বীকৃতি এলো।

দীর্ঘদিন ধরেই মালদহের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী কৃষিপণ্য হিসেবে পরিচিত আশাপুর বেগুন। বহুদিনের দাবির পর অবশেষে মিলল জিআই স্বীকৃতি। জেলা কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের তরপে জানান হয়েছে, আগামী দিনে জেলার আরও একটি জনপ্রিয় কৃষিপণ্য নবাবগঞ্জের বেগুনের জন্যও জিআই স্বীকৃতির আবেদন করা হবে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে আমের পাশাপাশি মালদহের কৃষি ঐতিহ্যে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হল। আশা করা হচ্ছে, দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও আশাপুর বেগুনের চাহিদা ও পরিচিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।