কৌশিক রায়

বাঙালি আর আফ্রিকার মধ্যে কোথাও একটা আত্মিক যোগাযোগ আছে। শঙ্করের চাঁদের পাহাড় অভিযানের পর থেকে বাঙালির মনে আফ্রিকার একটা ছবি তো গেঁথেই গেছে।

আর ভ্রমণ, নতুন অ্যাডভেঞ্চার, নতুন আবিষ্কার ভালবাসেন না এমন বাঙালি গোটা বিশ্বে খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে বিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে বাঙালি যে সত্যিই আফ্রিকার মাটিতে বিরাট একটা আবিষ্কার করে ফেলবে সেটা কেই বা ভাবতে পেরেছিল।

বিভূতিভূষণের চাঁদের পাহাড়ে শঙ্কর যেমন হীরের খনি আবিষ্কার করেছিল তেমনই এবার আফ্রিকা মহাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশ তানজানিয়ার মাটিতে বিশাল গ্রাফাইটের খনি আবিষ্কার করল ভারতীয় সংস্থা সাকারিয়া মাইনস অ্যান্ড মিনারেলস।

এই সংস্থার নেতৃত্বে রয়েছেন পাঁচ বাঙালি। এই সংস্থার প্রধান শাখা আহমেদাবাদে হলেও টেকনিক্যাল অফিস রয়েছে কলকাতায়। এই পাঁচ বাঙালি হলেন সুপ্রিয় দাস, সুকান্ত গোস্বামী, সাবির আহমেদ চৌধুরী, শুভব্রত দে এবং কৌশিক দাস। সংস্থার সিইও সুপ্রিয় দাসকে ফোনে ধরল আজকাল ডট ইন। 

তিনি জানালেন, ‘আমরা মোটামুটি ২০২২ থেকে তানজানিয়াতে এক্সপোরেশন স্টার্ট করেছি। সোনা এবং গ্রাফাইটের খোঁজ করাই ছিল প্রধান লক্ষ্য। অবশেষে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর নাগাদ আমরা একটা বড় গ্রাফাইটের খনির খোঁজ পাই।’

সুপ্রিয় জানালেন, যে গ্রাফাইটের খোঁজ মিলেছে তা ন্যাচারাল হাই-গ্রেড, লার্জ-ফ্লেক গ্রাফাইট। খনিতে প্রায় ১৮৩ মিলিয়ন টনের কাছাকাছি গ্রাফাইট মজুত থাকতে পারে বলে জানান তিনি। তাঁর দাবি, এটা সম্ভবত পৃথিবীর পঞ্চম বৃহত্তর গ্রাফাইটের খনি। 

খোঁজ তো মিলল, পরবর্তী পরিকল্পনা কী?

সুপ্রিয়র কথায়, ‘এবার আমরা এটাকে মাইনিংয়ের জন্য প্ল্যান করব। ভারতে গ্রাফাইটকে ক্রিটিক্যাল মিনারেল হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।’ সুপ্রিয়র স্পষ্ট বক্তব্য, ‘সেন্ট্রাল গভমেন্টেরও যে অ্যানাউন্সমেন্ট গুলো আছে সেখানে আপনি দেখতে পাবেন, ভারতের যে ক্রিটিকাল মিনারেল মিশন রয়েছে তার মধ্যে এই গ্রাফাইটও রয়েছে। গ্রাফাইটের ডিমান্ড ভবিষ্যতে বাড়বে। আমরা যাতে ইন্ডিয়ার মার্কেটকে সাপোর্ট দিতে পারি সেরকমভাবেই নিজেরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমাদের পরিকল্পনা ওখান থেকে গ্রাফাইট মাইনিং করে তারপর প্রসেসিং করে ইন্ডিয়াতে পাঠানো।’

কবে থেকে শুরু হবে মাইনিংয়ের কাজ?

সুপ্রিয়র কথায়, ‘আমাদের এই মুহূর্তে এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স রয়েছে। সরকার থেকে এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স দেওয়ার অর্থ ওই এলাকায় খোঁজ চালানোর পর কী কী সামনে এসেছে তার একটা রিপোর্ট তৈরি করে সরকারকে দিতে হয়। এটা একটা লিজ নেওয়ার মতো। আমাদের সাত বছরের জন্য এক্সপ্লোরেশন লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এই কাজটা আমাদের হয়ে গেছে। আমরা সরকারকে এবার রিপোর্ট সাবমিট করব। এরপরে আমরা মাইনিং লিজের জন্য আবেদন করব। তবে তার আগে আমাদের কিছু স্টাডি এবং রিসার্চ বাকি রয়েছে। যেগুলো আমরা ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছি।’

উল্লেখ্য, তানজানিয়ার খনিতে যে ধরনের গ্রাফাইট আবিষ্কার হয়েছে তা অত্যন্ত উচ্চমানের। ব্যাটারি শিল্প, বিদ্যুৎ শিল্প সহ যে কোনও ভারী শিল্পের ক্ষেত্রে এই ধরনের গ্রাফাইট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফলে, সুদূর তানজানিয়া থেকে বিপুল পরিমাণে লার্জ ফ্লেক গ্রাফাইট যদি ভারতে রপ্তানি করা যায় সেক্ষেত্রে ইভি এবং ব্যাটারি সেক্টরে ব্যাপক উন্নতি করতে পারে ভারত।