আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে গুন্ডা দমন আইন বিরোধী মত এবং সত্যকে চাপা দেওয়ার জন্য লাগু করতে চলেছে বিজেপি। আইনের জন্য আনা এই বিল সাজানোই হয়েছে এই পরিকল্পনা নিয়ে। মঙ্গলবার এই অভিযোগ করেন সর্বভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) কে সি বেনুগোপাল। এদিন পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের সদর দপ্তর বিধান ভবনে এই মন্তব্য করেন তিনি। সেইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বিজেপি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোগুলি 'হাইজ্যাক' করে নিচ্ছে। বেনুগোপাল-এর অভিযোগ, সমস্ত তদন্তকারী 'এজেন্সি'গুলি বিরোধীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সোমবার রাজ্যে গুন্ডা দমন করতে একটি বিশেষ আইন চালু করতে চলেছে রাজ্য সরকার। যার বিল সোমবার বিধানসভায় 'পাস' হয়েছে। 

দলীয় কাজে রাজ্যে দু'দিনের সফরে এসেছিলেন বেনুগোপাল। ২৯ এবং ৩০ জুনের এই সফরের প্রথমদিন তিনি মিলিত হয়েছিলেন দলের জেলা সভাপতিদের সঙ্গে এবং এরপর তিনি রাজ্য কংগ্রেসের পলিটিক্যাল অ্যাফেয়ার্স কমিটি'র সদস্যদের সঙ্গে একটি বৈঠক করেন। দ্বিতীয়দিন মঙ্গলবার তিনি মিলিত হন রাজ্য হয়ে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা সমস্ত কংগ্রেস প্রার্থীদের সঙ্গে। মঙ্গলবার দুপুরে বিধান ভবনে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রহসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি দেশের সাংবিধানিক কাঠামোগুলির 'হাইজ্যাক' হয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন। তাঁর অভিযোগ, সরকার কীভাবে লোক কী খাবে বা খাবে না সেটা ঠিক করতে পারে? গোটা বিষয়টি নিয়ে তিনি তাঁর দলের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে বলেন, "গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য কংগ্রেস তার সর্বশক্তি দিয়ে লড়াই চালিয়ে যাবে।" 

গুন্ডা দমন আইন নিয়ে বেনুগোপালের অভিযোগ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির অন্যতম মুখপাত্র সায়ন্তন বসু বলেন, "যে আইনের কথা বেনুগোপাল বলছেন সেটা মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস সরকারের আমলে চালু হয়েছিল। এই দেশে এখনও পর্যন্ত যেই যেই আইন লাগু হয়েছে তা তৈরি হয়েছে কংগ্রেসের আমলে। ন্যাশানাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বা এনএসএ যার জেরে বহু রাজনৈতিক নেতাকে জেলে যেতে হয়েছিল তৈরি হয়েছিল কিন্তু কংগ্রেসের শাসনকালেই। এগুলো যদি 'ড্রাকোনিয়ন' না হয় তবে এটা কেন ড্রাকোনিয়ন হবে? রাজ্যে গুন্ডা দমন করতে যে আইন আনা হচ্ছে তার সঙ্গে কিন্তু এনএসএ-এর অনেক তফাৎ রয়েছে। ফলে এই ধরনের কথা বলার কোনও অধিকার কংগ্রেসের নেই।"