আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাওড়া স্টেশনের ৭ নম্বর প্ল্যাটফর্মে আচমকাই তৈরি হল যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। আপ মিথিলা এক্সপ্রেস ছাড়ার ঠিক আগের মুহূর্তে ট্রেনের দুটি কামরার সংযোগস্থল থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বের হতে দেখে ছড়িয়ে পড়ে তীব্র আগুন-আতঙ্ক। চোখের পলকে ধোঁয়ায় অন্ধকারের গ্রাসে চলে যায় চারপাশ। আর তাতেই প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি ও হুড়মুড়িয়ে ট্রেন থেকে নামার চেষ্টায় আহত হলেন মহিলা ও শিশুসহ একাধিক যাত্রী।
বিকেল ৩টে ৫০ মিনিটে ট্রেনটি ছাড়ার কথা ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী যাত্রী সীতারাম জানান, "বিকেল ৩টে ৪০ নাগাদ হঠাৎই কামরা ধোঁয়ায় ভরে যায়। সবাই চিৎকার করে ট্রেন থেকে নামার চেষ্টা করতে থাকেন। সেই তাড়াহুড়োয় কেউ পড়ে যান, কারও মোবাইল হাত থেকে ছিটকে যায়, আবার ভিড়ের সুযোগে কারও টাকার ব্যাগও চুরি হয়ে যায়।" অপর এক আতঙ্কিত যাত্রী মহম্মদ গফর বলেন, "কামরায় আগুন লেগেছে ভেবে চারদিক পুরো অন্ধকার হয়ে গিয়েছিল। ট্রেনটি প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকায় বরাতজোর, নইলে বড়সড় বিপর্যয় ঘটতে পারত।"
ঘটনার আকস্মিকতায় স্টেশনে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। আতঙ্কিত যাত্রীদের ছোটাছুটিতে প্ল্যাটফর্ম জুড়েই কান্নাকাটি ও চিৎকারের রোল ওঠে। ধাক্কাধাক্কিতে বেশ কয়েকজন মহিলা ও শিশু পড়ে গিয়ে চোট পান। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান রেলের পদস্থ আধিকারিক ও দমকল কর্মীরা। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
রেল সূত্রে খবর, প্রাথমিক স্তরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ট্রেন ছাড়তে অনেকটাই বিলম্ব হয়। মুজাফফরপুরগামী বহু যাত্রী এই ঘটনার পর আতঙ্কে প্ল্যাটফর্মেই আটকে পড়েন। এই ঘটনার সঠিক কারণ খতিয়ে দেখছেন রেলের ইঞ্জিনিয়াররা। রেলের তৎপরতায় বড় বিপদ এড়ানো গেলেও, এই ঘটনা যাত্রীদের রেল সুরক্ষার ওপর ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করে দিল।














