আজকাল ওয়েবডেস্ক: আগামী বৃহস্পতিবার ফলতায় পুনর্নির্বাচন। তার আগেই তৃণমূলের জাহাঙ্গীর জানিয়ে দিলেন, তিনি ভোটে লড়বেন না। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও সাংসদ সুকান্ত মজুমদার জানিয়েছেন, "ভয়ে হয়তো পালিয়ে গিয়েছেন। অভিষেক ব্যানার্জি ও মমতা ব্যানার্জি কেউ নেই। বেচারা একা একা কী করবেন, তাই ছেড়ে দিয়েছেন।"
পাশাপাশি তিনি জানিয়েছেন, "ডায়মন্ড হারবার মডেল বলে কিছুই ছিল না। ওঁর লোকজন ভুল করে লিখে ফেলেছিল ডায়মন্ড হাবরা মডেল। বুড়ো হাবরা মডেল কত দিন চলবে। ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়াকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন উনি। আমি যতদূর জানি উনি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছেন ছোটবেলা থেকে। ইউনিয়ন অফ ল বলতে কাকে বোঝায়, গোটা দেশকে সম্পূর্ণ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ করে বলেছেন। এখন কোথায়? গোটা ফলতায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।"
সুকান্ত আরও জানিয়েছেন, "মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট তিনি জানিয়ে দিয়েছেন কোনও বেআইনি কাজ আর করা যাবে না। আমরা যাঁরা রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি তাঁদের আরও বেশি সংযত হয়ে কাজ করা উচিত। কোনও কাজ প্লানের বাইরে করা উচিত না। সব কাজ প্লানমাফিক করা উচিত। স্বাভাবিকভাবে যে বাড়ির মালিক অভিষেক ব্যানার্জি বা তাঁর পরিবারের কেউ, সেই বাড়িতে কোনও নির্মাণ অবৈধ হলে নোটিশ ওঁর কাছে যাবে। আমার কলকাতায় বাড়ি নেই তাই আমার কাছে আসবে না।"
তিনি আরও বলেন, "অভিষেক ব্যানার্জি জাহাঙ্গীর খানকে গোটা সাম্রাজ্য হাতে তুলে দিয়েছিলেন। কাকে মারতে হবে, কাকে ধরতে হবে, কোন ডাক্তারবাবুর বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দিতে হবে, কাকে উচ্ছেদ করতে হবে, হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে সবার উপর অত্যাচার করতে হবে, বিশেষ করে হিন্দুদের ওপর বেশি অত্যাচার করেছেন। তাঁর প্রচারে এখনও পর্যন্ত অভিষেক যাননি। জাহাঙ্গীর নমিনেশন তুলে নেবেন, লড়বেন না বলেছেন, এখনও পর্যন্ত অভিষেক ব্যানার্জি জানেন না! যদিও টেকনিক্যালি নমিনেশন তোলা যায় না এখন। মানে তিনি নমিনেশন তুলে নিবেন এটা পার্টির সর্বোচ্চ নেতৃত্ব জানে না! তাহলে ভাবতে হবে তৃণমূল দল কীভাবে চলছিল এতদিন। নাকি তৃণমূল নির্মূল হয়ে গেছে। কংগ্রেস তৃণমূল, কংগ্রেস সবাই একসঙ্গে লড়াই করে। ওরা ফিসফ্রাই জোটের অঙ্গ। আমরা আছি আমরাই জিতব।"
অন্যদিকে বিজেপি নেত্রী লকেট চ্যাটার্জি ফলতার পুনর্নির্বাচন ও জাহাঙ্গীরের প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, "পার্টি পুরো সাফ হয়ে গিয়েছে, ভয়ে সবাই পালিয়ে গিয়েছেন। কাউকে আর দেখা যাচ্ছে না। ফলতায় ১০ বছর ধরে কাউকে ভোট দিতে দেয়নি। ভোটার কার্ড নিয়ে রিগিং হয়েছে, ছাপ্পা ভোট দিয়েছে। এবার মানুষ জেগে উঠেছে।"
বুলডোজার প্রসঙ্গে তিনি আরও জানিয়েছেন, "বিভিন্ন জায়গায় বুলডোজার চলছে। একদিন ওরা বুলডোজার চালিয়েছিল ফলতায়। একুশের বিধানসভার নির্বাচনের পর কীভাবে তারা লুটপাট করেছে এখন মানুষ সামনে দাঁড়িয়ে আছে। পুষ্পা কাউকে দেখা যাচ্ছে না। উপর থেকে পুষ্প বৃষ্টি পড়ছে আর পুষ্পরা সব বেরিয়ে যাচ্ছে। জাহাঙ্গীর খান নানারকম সিনেম্যাটিক কথাবার্তা বলেছিলেন। এখন কোথায়? ৮০ জন বিধায়ক আছে। কিন্তু তৃণমূল দলে কোনও লোক নেই। সবাই পালিয়ে যাচ্ছেন। পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে, এতদিন ধরে মানুষকে তারা যেভাবে অত্যাচার করেছে মানুষকে বোকা বানিয়েছে। এখন তৃণমূল সরকার উঠে গিয়েছে। বুলডোজার দিয়ে মানুষ তৃণমূল সরকারকে তুলে দিয়েছে। আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর মডেলে বাংলার জনতা খুব হ্যাপি ফিল করছেন। সরকার কোনও বেআইনি কাজ বরদাস্ত করবে না।"














