আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবার আমচাষিদের মুখে হাসি ফুটেছে। অন্যান্য বছরের তুলনায় এই বছর ফলন কিছুটা কম হলেও বাজারে মিলছে ভাল দাম। চাষীদের দাবি, বড় ধরনের ঝড় না হওয়ায় বাগানের ক্ষতি তুলনামূলক কম হয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরে আমবাগান থেকে কাঁচা আম পাড়া শুরু হয়ে গিয়েছে। 

নদিয়ার শান্তিপুর, ফুলিয়া, মাজদিয়া, কৃষ্ণগঞ্জ সহ একাধিক এলাকায় ব্যাপকভাবে আমের চাষ হয়। এর মধ্যে হিমসাগর আম অন্যতম জনপ্রিয়। তবে, প্রতি বছরই একটি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় চাষিদের। পোকামাকড়ের আক্রমণ, পাতার ঘষা কিংবা ডালে আঘাত লাগার কারণে আমের গায়ে নানা দাগ তৈরি হয়। ফলে, ফলের স্বাদ ভাল হলেও বাইরের সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ায় বাজারে কাঙ্ক্ষিত দাম পান না অনেক চাষী। 

সেই সমস্যা দূর করতেই এবার নতুন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন চাষীরা। চাষীদের ভাষায়, আরৎ দারের কাছ থেকে কাগজ দিয়ে তৈরি বিশেষ ধরনের প্যাকেট নিয়ে আসেন তারা। প্রায় দশ দিন আগে সেই প্যাকেট আমের গায়ে পরিয়ে দেওয়া হয়। স্থানীয় ভাষায় এই প্যাকেটের নাম দেওয়া হয়েছে 'নাইটি'। দেখতে অনেকটা ছোট জামার মতো হওয়ায় এমন নামকরণ বলে জানান চাষিরা। 

চাষিদের কথায়, মানুষ যেমন জামা পরে শরীরকে সুরক্ষিত রাখে, তেমনই আমের গায়ে এই 'নাইটি' পরানো হলে ফলের রং ভাল থাকে এবং বাইরের দাগও অনেকটা কমে যায়। পাশাপাশি পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকেও কিছুটা সুরক্ষা মেলে। এর ফলে বাজারে আম দেখতে আরও আকর্ষণীয় হবে এবং ভাল দাম পাওয়ার সম্ভাবনাও বাড়বে। 

এই বছরই প্রথম এই পদ্ধতি ব্যবহার করছেন অনেক আমচাষী। তারা জানিয়েছেন, মাঝেমধ্যে 'নাইটি' খুলে আম পরীক্ষা করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ফল ভালই মিলছে বলে দাবি তাদের। চাষীদের আশা, এই নতুন পদ্ধতি ভবিষ্যতে আমচাষে আরও লাভের মুখ দেখাবে এবং বাজারে সুন্দর ও উন্নত মানের আম সরবরাহ করা সম্ভব হবে।