আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৬-এর ভোটের আগে নজর ছিল ফলতায়। সিংঘমের দাপাদাপির মাঝে, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বলেছিলেন, 'পুষ্পা ঝুঁকবে না।'  তারপর রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। মাস ঘোরার আগেই দেখা গেল, ঝুঁকব না বলেও, ঝুঁকে গেলেন 'পুষ্পা' জাহাঙ্গীর খান। রনে ভঙ্গ দিলেন একেবারে। 

 

২১ মে ফলতায় ভোট। তার আগে, ১৯ মে, জাহাঙ্গীর খান জানালেন, তিনি ফলতার মানুষের স্বার্থে, শান্তির স্বার্থে, সোনার ফলতা গড়ার স্বার্থে ভোট লড়া থেকে সরে দাঁড়াবেন। 

 


মঙ্গলবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান বলেন, 'আমি ফলতার ভূমিপুত্র। এই মাটির মানুষের পাশে সবসময় থেকেছি, আগামীতেও থাকব। কিন্তু রাজনৈতিক সংঘাত বা অশান্তি সৃষ্টি করে নয়, মানুষের উন্নয়নই আমার প্রধান লক্ষ্য। তাই সাধারণ মানুষের শান্তি বজায় রাখতে আমি এই উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।'


জাহাঙ্গীর খান আরও দাবি করেন, 'রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। সেই উন্নয়নমূলক প্রকল্পকে সফলভাবে বাস্তবায়িত করাই এখন তাঁর প্রধান লক্ষ্য।' তাঁর বক্তব্য, 'ফলতার উন্নয়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমি চাই না রাজনৈতিক লড়াইয়ের কারণে উন্নয়নের কাজ ব্যাহত হোক। তাই আমি ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লড়াইয়ের থেকে এলাকার স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।'


তাঁর এই ঘোষণার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। নির্বাচনের ঠিক আগে এমন সিদ্ধান্ত কেন? এর পিছনে কি শুধুই উন্নয়নের স্বার্থ, নাকি রয়েছে অন্য কোনও রাজনৈতিক সমীকরণ? যদিও এই বিষয়ে সরাসরি কিছু বলতে চাননি জাহাঙ্গীর খান। তিনি শুধু জানিয়েছেন, মানুষের স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


এদিকে জাহাঙ্গীর খানের সরে দাঁড়ানোর ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের অন্দরেও শুরু হয়েছে চর্চা। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ফলতায় রাজনৈতিক সংঘাত কমিয়ে উন্নয়নের বার্তা দিতেই এই কৌশল নেওয়া হতে পারে। আবার বিরোধীদের একাংশের দাবি, নির্বাচনের আগে এই ধরনের ঘোষণা রাজনৈতিক চাপে নেওয়া সিদ্ধান্তও হতে পারে।
যদিও জাহাঙ্গীর খান নিজের অবস্থানে অনড়। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, 'আমি রাজনীতি করি মানুষের জন্য। ভোটে দাঁড়ানো বা না দাঁড়ানো বড় কথা নয়, বড় কথা হল ফলতার মানুষের স্বার্থ রক্ষা করা। আমি সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, থাকব।'


ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে এই ঘোষণা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার, জাহাঙ্গীর খানের এই সিদ্ধান্ত ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলে এবং ফলতার রাজনৈতিক ছবিতে নতুন কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় কি না।