আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২৯৩ আসনে ভোট হয়েছে। ফলাফল ঘোষণা হয়েছে। বাকি রয়ে গিয়েছে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র। সেই ফলতায় ভোট। আর ভোটের মুখে এবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ফলতার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী জাহাঙ্গীর খান। জাহাঙ্গীর গত কয়েকদিন ধরেই রাজ্য রাজনীতির চর্চায়। এবার ভোটের আগে রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন 'পুষ্পা'। সূত্রের খবর, তাঁর আবেদনে সাড়া দিয়ে ভোটের দিন এবং ফলপ্রকাশকে মাথায় রেখে রক্ষাকবচ দিয়েছে আদালত। ২৬ মে পর্যন্ত গ্রেপ্তারের মতো কড়া পদক্ষেপ নয়৷ অন্তর্বতী নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। 

সূত্রের খবর, হাইকোর্ট বেশকিছু শর্তও দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীকে। জানানো হয়েছে, কমিশনের সব নিয়ম মেনে চলতে হবে। ভোটারদের বাধা ও হুমকি দেওয়া যাবে না। 
সূত্রের খবর, এদিন  বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য প্রশ্ন করেন, রাজ্য কি চাইছে জাহাঙ্গীর কে জেলে রেখে ভোট করাতে? 
সওয়াল-জবাবের পর বিচারপতি জানান, ভোট ফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রক্ষাকবচ থাকবে। হাইকোর্টের শর্ত দেবে, তা মানলেই রক্ষাকবচ। 

তথ্য, রাজ্যের আইনজীবী এদিন জানান,' নির্বাচন ঘোষণা হওয়ার থেকে এই ব্যক্তি ও তার সমর্থকদের ভূমিকা জানলে অবাক হবেন। ফলতার নির্বাচন কেন পিছিয়ে দেওয়া হল একবার দেখুন। নির্বাচন কমিশনের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ব্যালট বক্সে কালো কিছু লাগিয়ে দেওয়া হয় একাধিক বুথে। বুথ ক্যাপচারিং এর অভিযোগ ছিল। ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন। ইনি ওই সময় রুলিং দলের প্রার্থী ছিলেন। এই ধরনের অপরাধমূলক কাজের মাস্টারমইন্ড ছিলেন তিনি।'

 

তবে ভোটের মুখে, ফলতার  পরিবর্তির পরিস্থিতিতেও জাহাঙ্গীরের গলায় আত্মবিশ্বাসের সুর স্পষ্ট। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা, বিরোধীদের অভিযোগ কিংবা সংগঠনের কিছুটা চাপ— সবকিছুর মাঝেও তিনি দাবি করছেন, সাধারণ মানুষের সমর্থন এখনও তাঁর পাশেই রয়েছে। তাঁর কথায়, ফলতার মানুষ এখনও তাঁকে বিশ্বাস করেন এবং আগামী দিনেও সেই সমর্থন বজায় থাকবে।

 

তবে, রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমানে ফলতায় বিজেপির সংগঠন আগের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। ভোটের প্রচার থেকে শুরু করে এলাকায় সংগঠন বিস্তার— সর্বত্রই বিজেপি কর্মীদের সক্রিয়তা চোখে পড়ছে। অপরদিকে তৃণমূলের একাংশ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠছে। অনেকেই নাকি ঘরছাড়া অবস্থায় রয়েছেন। যদিও এই অভিযোগ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর।