আজকাল ওয়েবডেস্ক: আবারও স্যালাইনকে কেন্দ্র করে বিতর্কে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। এবার এক রোগিণীকে মেয়াদোত্তীর্ণ (এক্সপায়ারড) স্যালাইন দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে তাঁর পরিবার। ঘটনাকে ঘিরে হাসপাতাল চত্বরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় কোতোয়ালি থানার পুলিশ। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লীর বাসিন্দা মানসী দে গত ৫ জুলাই স্ট্রোক-সহ একাধিক শারীরিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরিবারের দাবি, তাঁর শরীরে স্যালাইন চলছিল। হঠাৎ মানসী দে বুক জ্বালার কথা জানান। এরপর স্যালাইনের বোতল পরীক্ষা করে পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান, সেটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চলতি বছরের মার্চ মাসে।
রোগিণীর ছেলে বিশ্বজিৎ দে অভিযোগ করে বলেন, "মায়ের স্ট্রোক ছাড়াও একাধিক শারীরিক সমস্যা রয়েছে। বিকেলে মা বুক জ্বালার কথা বলতেই স্যালাইনের বোতল দেখে আমরা বুঝতে পারি সেটি এক্সপায়ার হয়ে গিয়েছে। কীভাবে এমন স্যালাইন রোগীকে দেওয়া হল, তার উত্তর চাই।" ঘটনার খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছয়। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দ্রুত রোগিণীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে নিয়ে গিয়ে আইসিইউ-তে ভর্তি করে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তে একটি টিম গঠন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের এমএসভিপি ইন্দ্রনীল সেন বলেন, "রোগিণীর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাঁকে স্ট্রিক্ট অবজারভেশনে রাখা হয়েছে। হাসপাতালে স্যালাইন ও ওষুধের স্টক থাকে। কোনওভাবে একটি মেয়াদোত্তীর্ণ স্যালাইন চলে এসেছিল, যা চালানোর সময়ই চিহ্নিত হয়েছে। এমন স্যালাইন ব্যবহার করা উচিত নয়। রোগিণীকে আগেই ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, তবে পরিবারের পক্ষ থেকে তখন সম্মতি মেলেনি।" ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে।















