মিল্টন সেন: শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে এসে ‘গুণ্ডা দমন আইন’ নিয়ে বিরোধীদের কড়া ভাষায় বিঁধলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তাঁর সাফ প্রশ্ন, “গুণ্ডা দমন আইন এলে সাধারণ মানুষের নয়, বরং গুণ্ডাদের ভয় পাওয়ার কথা। তাহলে বিরোধীরা কেন এত চেঁচামেচি করছেন?”

এদিন হুগলির মাহেশে দাঁড়িয়ে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার চরম সমালোচনা করেন দিলীপবাবু। তিনি দাবি করেন, এ রাজ্যে পাড়ায় পাড়ায় আরজি করের মতো নৃশংস ঘটনা ঘটছে। মা-বোনেদের মান-সম্মানের কোনও নিরাপত্তা নেই, অথচ দুষ্কৃতীরা বুক ফুলিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। 

পুলিশের একাংশ এবং শাসকদলের ভেতরের একাংশকেও ‘গুণ্ডা’ বলে দেগে দিয়ে পঞ্চায়েত মন্ত্রী বলেন, “গুণ্ডা শুধু রাস্তায় নেই, পুলিশের মধ্যেও আছে, পার্টির মধ্যেও আছে। যারা অসামাজিক কাজ করবে, তাদের যোগ্য শাস্তি পাওয়াই প্রকৃত গণতন্ত্র।”

রাজ্যের ক্ষমতায় যে বদল আসছে, সে ইঙ্গিতও দিয়েছেন দিলীপবাবু। তাঁর কথায়, “এখন কেউ চমকে দিয়ে পালিয়ে যাবে, কেউ থাকবে না। এটাই আসল পরিবর্তন। মানুষ দেখুক, পরিবর্তন হলে কী হয়। আমরা সবাইকে সমান অধিকার ও সম্মান দেব।”

নেতাদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার প্রসঙ্গেও চাঁছাছোলা আক্রমণ শানিয়েছেন তিনি। দিলীপ ঘোষের প্রশ্ন, “চোর-ডাকাতদের নিরাপত্তা দিলে পাবলিক কি ছেড়ে দেবে? নেতারা পুলিশকে কাজে লাগিয়ে তোলাবাজি আর গুণ্ডামি করেন। অপরাধ করলে সেই সাজাই পেতে হবে, বাকিটা আইন দেখবে।”

উত্তরপ্রদেশ বা বিহারের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ওইসব রাজ্যে গুণ্ডা দমন বিল চালু হলেও সাধারণ মানুষের কোনও ক্ষতি হয়নি। তাঁর দাবি, এই বিল নিয়ে আমজনতার বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই, কেবল যারা এতদিন গুণ্ডা পুষেছেন, তাঁরাই এখন ভয়ে কাঁপছেন। আর এই অভিযানের সূচনা ইতিমধ্যেই বারুইপুর থেকে হয়ে গিয়েছে।

পুজো দেওয়া শেষে এদিন মাহেশ মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী মন্ত্রীর হাতে জগন্নাথ দেবের একটি ছবি তুলে দেন।

ছবি পার্থ রাহা।